সাহারা কেলেঙ্কারি কাণ্ডে বড় আপডেট

Spread the love

সাহারা ইন্ডিয়ায় সঞ্চয় করে অনেক টাকা খুঁইয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এবার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে পারেন তাঁরা। এমনই সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সাহারা ইন্ডিয়া কমার্শিয়াল কর্পোরেশন লিমিটেড। দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে শীর্ষ আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে তারা। মহারাষ্ট্রের অ্যাম্বি ভ্যালি, লখনউয়ের সাহারা শহর-সহ একাধিক কোটি টাকার সম্পত্তি আদানি গোষ্ঠীকে বিক্রি করে দিতে চায় তারা।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুমতি চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছে সাহারা ইন্ডিয়া কমার্শিয়াল কর্পোরেশন বা এসআইসিসিএল। এই আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিল তারা।এসআইসিসিএল-র তরফে সওয়ালকারী আইনজীবী গৌতম অবস্থি শীর্ষ আদালতে জানান, ‘আদানি গোষ্ঠীকে নিজেদের বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে চায় সাহারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোট ২৪ হাজার কোটি টাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা গিয়েছে এবং গোটা টাকাটাই সেবির হাতে তুলেও দেওয়া হয়েছে।’ নয়া দিল্লি সূত্রে খবর, আগামী ১৪ অক্টোবর এই সম্পত্তি বিক্রির অনুমতি সংক্রান্ত শুনানি হতে পারে। সাহারা কেলেঙ্কারি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ইডির মাধ্যমে সুব্রত রায়ের প্রায় সকল সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করেছে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সেবি। সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করার পর, তারাই নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে তা বিক্রিও করে দিয়েছে। তবে সমস্ত সম্পত্তি এখনও বিক্রি হয়নি। যার জেরে এখনও আটকে রয়েছে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা। সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে জমা পড়া অনুমতি আবেদনেও একই কথা উল্লেখ করেছে সাহারা। তাদের যুক্তি, ‘সেবি বহু সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও, এখনও অনেক সম্পত্তি বিক্রি হয়নি। তাই বিনিয়োগকারী, স্টেক হল্ডারদের স্বার্থে সেই সম্পত্তিগুলিকে বিক্রি করে তার থেকে পাওয়া অর্থ সেবির হাতে তুলে দিলে তাদেরই লাভ হবে।’

২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, সাহারা ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সংস্থাগুলিতে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ১.৩ কোটি। ১.১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আটকে রয়েছে।এদিকে, ২০১২ সাল থেকে চলছে সাহারা ইন্ডিয়ার মামলা। সাহারা গোষ্ঠীর দুটি সংস্থাকে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেবি সাহারা এসক্রো অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬.২৫ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। গত ২ বছরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সাহারার বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৫,০৫৩ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। সাহারা গোষ্ঠীর সমবায় সমিতিতে টাকা রাখা বিনিয়োগকারীরা ফেরত পেয়েছেন।

সাহারা গোষ্ঠীর বৃহত্তম সম্পত্তি, মহারাষ্ট্রের পুণেতে আম্বি ভ্যালি সিটি। এই শহরটি প্রায় ৮,৮১০ একর জায়গা জুড়ে। সাহারার মালিকানাধীন হোটেল সাহারা স্টার, লখনউতে সাহারা সিটি এবং সাহারা গঞ্জ মল। এছাড়াও মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং উত্তরাখণ্ড-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে অসংখ্য সম্পত্তি রয়েছে সংস্থার। তবে বিক্রি হওয়া সমস্ত সম্পত্তির মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। রিয়েল এস্টেট, হোটেল, টিভি চ্যানেল, বিমা এবং খুচরো পণ্য বিক্রির ব্যবসা করত সাহারা গোষ্ঠী। উত্তর ভারত (উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং রাজস্থান) জুড়ে বহু জমি অধিগ্রহণ করেছিল সাহারা গোষ্ঠী। বেশ কয়েকটি জমি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা। নিউ ইয়র্কের দ্য প্লাজা হোটেলের একটি বড় অংশও অধিগ্রহণ করেছিল সংস্থা। এই সম্পত্তিটি পরে ২০১৮ সালে কাতারের একটি আর্থিক সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। সাহারা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন প্রায় ১৯টি সম্পত্তির লিজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ কয়েকটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। দখল হয়েছে বেশ কয়েকটি জমি। ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিছু জমি। খালি লখনউয়ে সাহারার জমির বাজার মূল্য আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *