এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার বদলায় ‘অপরেশন সিঁদুর’ স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারত। চলতি বছরের মে মাসে ভারতীয় বাহিনীর ‘হামলা’য় কেঁপে গিয়েছিল পাকিস্তান। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতেই তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। পাক প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে, ‘অপরেশন সিঁদুর’ অভিযানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে তাঁকে একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর সামরিক সচিব তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। সচিব তাঁকে বলেছিলেন যে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে, কারণ ভারতীয় বাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ২৬ জন নিরাপরাধ মানুষের হত্যার বদলা নিচ্ছে। ভারতীয় বাহিনী সুনির্দিষ্ট হামলা চালাচ্ছিল, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরচিত। ভারতের অভিযানের সময় পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘আমার সামরিক সচিব আমার কাছে এসে বললেন, ‘স্যার, যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।’ আমিই তাঁকে ৪দিন আগে বলেছিলাম যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে। এই অবস্থায় তিনি আমার কাছে এসে বলেন, ‘চলুন বাঙ্কারে লুকিয়ে পড়ি।’ তবে আমি তাঁকে পালটা জানাই, যদি মৃত্যু আসে তবে তা এখানেই আসবে। নেতারা কখনও বাঙ্কারে লুকিয়ে মরে না। তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করে মরে।’
আতঙ্কের অবশ্য এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ ৭ মাস পর অবশেষে শনিবার পাক বিদেশমন্ত্রী তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশক দার স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের হামলায় ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘নূর খান ঘাঁটিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছিল ভারত। এই হামলায় সামরিক স্থাপনা ভীষণভাবে ক্ষয়তিগ্রস্ত হয়। সেখানে থাকা কর্মীরা আহত হন। ৩৬ ঘন্টায় কমপক্ষে ৮০টি ড্রোন পাঠানো হয়। যার মধ্যে ৭৯টি ড্রোন হামলা আমরা রুখে দিই।’ পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গড়ে ওঠা নয়’টি জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভারত ৭ মে ভোরের দিকে ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযান শুরু করে। ভারতীয় বাহিনীর তরফে এই হামলাগুলিকে সুনির্দিষ্ট ও সীমিত বলে বর্ণনা করা হয়। এই হামলার লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো দুর্বল করা এবং ভবিষ্যতে আরও হামলা প্রতিরোধ করা। এই পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি তীব্রভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ বাড়িয়ে দেয় এবং ভারত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এর জবাব দেয়।

এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের ডিআইজি ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। ভারত এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। তারপর যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হয়। পরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি পাকিস্তানি পক্ষের এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বলেন যে উভয় দেশ স্থল, সমুদ্র ও আকাশে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসের পরও কী পাকিস্তান আদৌ শিক্ষা নেবে? নাকি আবারও সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘ভিক্টিম’ সাজার চেষ্টা চলবে? অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর এই স্বীকারোক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলের ইঙ্গিত হিসাবেই দেখতেন বিশ্লেষকরা।