সম্প্রতি কার্যত বিনা চিকিৎসায় কানাডার হাসপাতালে মৃত্যু হয় এক ভারতীয় যুবকের। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই কানাডার জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সে দেশের ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক বাড়ালেন মার্কিন আইনজীবী তথা ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু ব্রাঙ্কা। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্রুপ করে তিনি বলেন, ‘উনি মুম্বইতেই থাকতে পারতেন।’
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২২ ডিসেম্বর কর্মস্থলে আচমকা তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হলে ৪৪ বছরের প্রশান্ত শ্রীকুমারকে কানাডার এডমন্টনের গ্রে নানস কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছনোর পর প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় জরুরি বিভাগের ওয়েটিং রুমে বসিয়ে রাখা হয় তাঁকে। কোনও কার্যকর চিকিৎসা শুরু হয়নি সেই সময়ের মধ্যে। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের কর্মীদের বারবার জানানো হয়েছিল যে ব্যথার মাত্রা অত্যন্ত বেশি। এক সময় ইসিজি করা হলেও চিকিৎসকেরা জানান, তাতে বিশেষ কিছু ধরা পড়েনি। এরপরও দীর্ঘ অপেক্ষা চলতে থাকে। যন্ত্রণার জন্য শুধু টাইলেনল দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরমধ্যেই প্রশান্তের রক্তচাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রায় আট ঘণ্টা পরে তাঁকে রুমে ডাকা হয়। বাবা জানান, ভিতরে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুকে হাত দিয়ে লুটিয়ে পড়েন প্রশান্ত। তড়িঘড়ি নার্সেরা চিকিৎসকদের ডাকেন এবং প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

মার্কিন আইনজীবীর বিদ্রুপ
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে মুখ খোলেন অ্যান্ড্রু ব্রাঙ্কা। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ওই যুবক এবং তাঁর স্ত্রী মুম্বইতেই থাকতে পারতেন। কানাডার নোংরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ভারতের কোনও নোংরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হতে পারতেন।’ এরপরই তিনি ১৯৫২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কানাডায় অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়, অ্যান্ড্রু ভারত-বিদ্বেষী। অধিকাংশ পোস্টেই তিনি ভারতের বিরুদ্ধে বিষ ঢেলে দিয়েছেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ নীতির একজন কট্টর সমর্থক। অ্যান্ড্রু ব্রাঙ্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের প্রায়শই সমালোচনা করে থাকেন। তিনি এইচ-১বি ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ভারতে পাঠানোর দাবি করেছিলেন। তিনি ভারতীয়দের এক লক্ষ ডলারের বিনিময়ে এইচ-১বি ভিসা দেওয়ারও বিরোধিতা করেছিলেন।
ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন আইনজীবী তথা ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু ব্রাঙ্কার মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা। একজন নেটিজেন বলেছেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলেন এবং আপনি শুধুমাত্র তাঁর সমাধিতে ঘৃণা এবং নাচ করার কথাই ভাবতে পারেন।’ আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মৃত মানুষকে নিয়ে বিদ্রুপ করার জন্য আপনার লজ্জা হওয়া উচিত… আপনাকে কর্মফল পেতেই হবে।’ আরও এক নেটিজেন তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ঘৃণার উপর ভিত্তি করে ফলোয়ার তৈরি করছেন? যদি এটি কেবল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য হয়, তাহলে চিন্তা করবেন না। এর প্রতিফলন দেখার আগেই আপনার সময় শেষ হয়ে যাবে।’ গ্রে নানস হাসপাতালটি পরিচালনা করে কভেন্যান্ট হেলথ। তারা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও রোগী সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে ঘটনাটি চিফ মেডিক্যাল এক্সামিনারের দফতর খতিয়ে দেখছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকপ্রকাশ করলেও, এই ঘটনায় কানাডার জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।