সিডনির সমুদ্র সৈকতে হামলায় জড়িতদের একজন ভারতের নাগরিক

Spread the love

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে গুলি চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই হামলাকারীর মধ্যে পাল্টা হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাজিদ আকরাম নামে একজন। তিনি দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে ভারতে থাকা পরিবারের সাথে সাজিদের তেমন যোগাযোগ ছিল না বলেও দাবি করা হচ্ছে।

গেল রোববারের হামলাটিকে বলা হচ্ছে গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ‘সবচেয়ে ভয়াবহ গণ-গুলিবর্ষণের ঘটনা’। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে তদন্ত করছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, হামলার সময় সন্দেহভাজন সাজিদ আকরাম (৫০) পুলিশের গুলিতে নিহত হন। কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় সাজিদের ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪) তার বাবার সঙ্গে ছিলেন। নাভিদ বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

কে এই সাজিদ আকরাম?

তেলেঙ্গানার পুলিশ মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়সি সাজিদ হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। চাকরির সন্ধানে ভারত ছাড়ার আগে হায়দ্রাবাদ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন সাজিদ।

সাজিদ আকরাম প্রায় ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন এবং এই সময়ের মধ্যে হায়দ্রাবাদে থাকা নিজের পরিবারের সাথে তার খুব কম যোগাযোগ ছিল।

জানা গেছে, আকরাম শেষবার হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন ২০২২ সালে। তখনও তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। যদিও তার সন্তানরা – এক ছেলে এবং এক মেয়ে – অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক বিরোধের কারণে কয়েক বছর আগে হায়দ্রাবাদে থাকা পরিবারের সঙ্গে আকরামের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার অনেক আগেই আত্মীয়স্বজনরা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। পুলিশের মতে, ২০১৭ সালে সাজিদ আকরাম তার বাবার জানাজায়ও অংশ নেননি। 

অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর, সাজিদ আকরাম ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করেন, যাকে পুলিশ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত বলে বর্ণনা করেছে। এই দম্পতির দুই সন্তান­– নাভিদ এবং এক মেয়ে। পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, উভয় হামলাকারী (বাবা ও ছেলে) গত মাসে ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন। ভ্রমণের সময় সাজিদের ছিল ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ছেলে নাভিদ অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টে ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য তদন্তাধীন। তারা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিল কি না বা তারা ওই দেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

মঙ্গলবার তেলেঙ্গানা পুলিশ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর থেকে ছয়বার ভারত সফর করেছেন, মূলত পারিবারিক কারণেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *