দিল্লির একটি ক্যাফেতে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করার মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তির স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। যেখানে তিনি স্বীকার করেন, ওই যুবককে গুলি করে মেরেছেন এবং কেন গুলি করেছেন তাও বলেন ভিডিওতে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরে ২৪ বছর বয়সী ফয়জানকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি।ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুরের একটি ক্যাফেতে। ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, কয়েক মাস আগে ফয়জান তাকে মেরেছিল। সেই কারণে তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে তার পরিবার বা বন্ধুদের কোনো ভূমিকা নেই।
বলেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রোশের বশে আমি ফয়জানকে খুন করেছি। এতে আমার বাবার কোনো ভূমিকা ছিল না, আমার পরিবার বা বন্ধুদেরও এর সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি কারও কথায় তাকে খুন করিনি এবং এতে কোনো অর্থেরও যোগসূত্র ছিল না। চার মাস আগে সে আমাকে চড় মেরেছিল, তাই আমি তার জীবন শেষ করে ফেলেছি।’ভিডিওতে তিনি দাবি বলেন।
এদিকে, ফয়জানের ভাই সালমান বলেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি অর্থ-সম্পর্কিত এবং এ কারণেই খুনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সন্দেহভাজন ব্যক্তি একে মিথ্যা বলেছেন।
সালমান বলেন, ‘সে ঋণ নিয়েছিল। যখন সে তা পরিশোধ করতে পারছিল না, তখন বাবা-ছেলে আমাদের বাড়িতে এসে ঝগড়া শুরু করে। আমরা অভিযোগ দায়ের করেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি। আমরা চাই বাবা-ছেলে উভয়কেই গ্রেফতার করা হোক।’

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০:২৮ মিনিটের দিকে মৌজপুরের মিস্টার কিং লাউঞ্জ অ্যান্ড ক্যাফেতে ফয়জানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পৌঁছানোর পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এদিকে, সালমান দাবি করেছেন, তার ভাইয়ের শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে; একটি তার মাথা দিয়ে এবং দুটি বুকে লেগেছে।জানা গেছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে।