হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে অভিযুক্ত ফয়সাল খুললেন মুখ

Spread the love

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে এবার নয়া মোড়। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল দুই মূল অভিযুক্ত রাহুল ওরফে ফয়সাল কিরম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। রবিবার আদালতে দাঁড়িয়ে সেই ফয়সাল করিম বললেন, তিনি এসব কাজ করেননি, কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্তও নন। তবে কী ষড়যন্ত্র করে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে অভিযুক্ত। এদিন বিধাননগর আদালত ধৃত দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ১৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার দু’জনকে বিধাননগর আদালতে পেশ করার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যা বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনও কাজে ছিলাম না।’ তবে কী তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে? এই প্রশ্ন করা হলে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে ফয়সাল। তার এই দাবি থেকে আরও প্রশ্ন উঠছে, তবে কী এই ঘটনার অভিযুক্তরা আড়াল থেকে এই দু’জনকে কৌশলে গ্রেফতার করিয়েছে? অন্যদিকে, এদিন আদালতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে জেলে গিয়ে জেরা করার অনুমতি চায় এনআইএ। বিচারক সেই অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে বিচারক ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট বা ইউএপিএ-র ১৬ এবং ১৮ নম্বর ধারা যুক্ত করার আবেদনও মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মূল চক্রী এই ফয়সালই।

ফয়সালদের জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত ১৪ মার্চ ভোরে নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস থেকে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি দালালকেও গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। এসটিএফ-এর দাবি সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সালদের ভারতে পালাতে সাহায্য করেছিল এই ফিলিপ। এদিকে, গত ৯ মার্চ ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলি হোসেন ফকির জানিয়েছিলেন, ভারতের মাটি থেকে ধৃত এই আসামিদের বাংলাদেশে ফেরাতে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে কূটনৈতিক স্তরে জোরদার তৎপরতা চলছে।

গত ডিসেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশে নমাজ পড়ে ফেরার পথে দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় খুন হন ৩২ বছর বয়সি ওসমান হাদি। তাঁকে মাথায় গুলি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। কয়েকদিন জীবনযুদ্ধের পর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় হাদির। এরপরই কার্যত তাঁর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। বাংলাদেশ পুলিশ সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছিল, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়েছে। যদিও সে সময় নয়া দিল্লি এই দাবি নস্যাৎ করে দেয়। কিন্তু মার্চের গোড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত জেলা বনগাঁ থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে ধরা পড়েন দুই বাংলাদেশি। এটা এসটিএফের বড় সাফল্য। জেরা করে জানা যায়, হাদি হত্যার পর মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে তারা ভারতে ঢুকেছিল। তারপর নানা জায়গায় ঘুরে বনগাঁয় গা ঢাকা দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *