হু হু করে বাড়ছে দাম! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় বন্ধ হরমুজ প্রণালী

Spread the love

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। আর এই সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে অপরিশোধিত তেলের উপর। যুদ্ধ লাগার পর থেকেই দৈনিক আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। বন্ধ রয়েছে ভারতে তেল আমদানির মূল রাস্তা হরমুজ প্রণালীও।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু শনিবার সেই দাম এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০৩ মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ, এই অল্প সময়ের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩০ মার্কিন ডলার, শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৪১.১ শতাংশ। বলে রাখা ভালো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং নেতাদের উপর ব্যাপক হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেলের দামের এই ব্যাপক বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন। কারণ, বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহণের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনেও এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব বাজারকে ব্যাপক প্রভাবিত করবে। এই প্রসঙ্গে এনরিচ মানি-র সিইও পনমুড়ি আর বলেছেন, আগামী সপ্তাহটা বাজারের জন্য খুব অস্থির থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন। তাঁর কথায়, ‘পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে বা কূটনৈতিক স্তরে সমাধানের কোনও ইঙ্গিত মিলছে কিনা, তার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্তা এবং বিশ্ব নেতাদের বিবৃতির দিকে তাকিয়ে থাকবেন বিনিয়োগকারীরা।’ তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিই অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে বন্ডের লাভ এবং কারেন্সি মার্কেটের ওঠানামা নির্ধারণ করবে। তাঁর মতে, বিশেষ নজর থাকবে হরমুজ প্রণালীর উপর, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত।হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানে টান পড়বে। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং বাজারের সার্বিক ঝুঁকিও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *