ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। বাংলাদেশের এই নায়ক এপার বাংলারও পরিচিত মুখ। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-র নায়ক হিসাবে নজর কেড়েছেন। প্রয়াত পরিচালক শ্য়াম বেনেগালের মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। আচমকাই আলোচনায় আরেফিনের ব্যক্তিগত জীবন!
দু-বছর আগে কলকাতার মেয়ে অর্পিতা সমাদ্দারের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা সেরেছিলেন আরেফিন। সেই নিয়ে কম সমালোচনার ঝড় ওঠেনি। বুধবার আচমকাই ফেসবুকে অভিনেত্রী কেয়া পায়েলকে আগলে শুভর একটি ফেসবুক পোস্ট নেটপাড়ায় ব্যাপক হইচই ফেলে দেয়। একে অপরকে জড়িয়ে থাকা একটি ছবি শেয়ার করে আরেফিন শুভ ক্যাপশনে লেখেন— ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ (Happily Married)! স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি বাস্তবে সত্যিই বিয়ে করলেন এই দুই তারকা?
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খবরটি মোটেও বাস্তব জীবনের নয়। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি (Chorki)-র নতুন অরিজিনাল ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারেড’-এর প্রচারণার অংশ হিসেবেই এই অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত এই রোমান্টিক-কমেডি ছবির মাধ্যমে প্রথমবার পর্দায় জুটি বাঁধছেন শুভ ও কেয়া।
‘মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ (MOL) প্রজেক্টের সপ্তম সিনেমা হতে যাচ্ছে এই ‘হ্যাপিলি ম্যারেড’। এবার পরিচালক জাহিদ প্রীতম তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্রে এই নতুন জুটিকে নিয়ে ভিন্নধর্মী এক সম্পর্কের গল্প বুনেছেন।
মফস্বলের ‘আনিস’ বনাম ভার্চুয়াল জগতের ‘অনামিকা’
ছবিটির গল্প গড়ে উঠেছে বর্তমান যুগের দুই বিপরীত মেরুর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। সচরাচর পর্দার অ্যাকশন হিরো বা ‘আলফা মেইল’ ইমেজ ভেঙে শুভ এখানে অভিনয় করছেন একজন সহজ-সরল, স্বাধীন ও পরিবারকেন্দ্রিক মফস্বলের যুবক আনিসের চরিত্রে। নিজের চরিত্র নিয়ে শুভ বলেন, ‘এখানে দর্শক আমাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখতে পাবেন, যা কোনো চিরাচরিত শক্তিশালী পুরুষ চরিত্র নয়।’
উচ্চবিত্ত শহুরে সংস্কৃতিতে বড় হওয়া অনামিকা নামের এক তরুণীর চরিত্রে দেখা যাবে কেয়াকে। যার পুরো জীবনটাই আবর্তিত হয় সোশাল মিডিয়ার ফ্যান্টাসি ও ভার্চুয়াল জগতের রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে। ভার্চুয়াল জগতের এই মোহ বনাম মফস্বলের বাস্তব জীবন এবং আমাদের চেনা পারিবারিক মূল্যবোধের সংঘাতই হবে ছবির মূল আকর্ষণ।

পোস্টের সত্যতা জানতে পেরে খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আরেফিন শুভর মহিলা ভক্তরা। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ফেসবুক পোস্টে বিচ্ছেদের ঘোষণা জানিয়ে শুভ লিখেছিলেন- ‘মনে হল আপনাদের বিষয়টা জানানোর সময় এসেছে। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি আর অর্পিতা, আমরা হয়তো বন্ধু হিসাবেই ঠিক আছি। জীবনসঙ্গী হিসাবে নয়। আমরা গত ২০ জুলাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি বন্ধুত্বটুকু নিয়ে দুই জনের সম্মতিতে বাকি জীবন নিজেদের মতো করে বাঁচব।’’
তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আমার এবং আমার মায়ের জন্য অর্পিতা যা করেছেন, সেটার জন্য তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী। মা চলে যাওয়ার পর জীবনটা একেবারেই শূন্য হয়ে গেছে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা আমার সঙ্গে আছে যেটা নিয়ে বাকি জীবনটা সুন্দর সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারব।’