২৪ বছর আগে বুশ-পুতিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

Spread the love

প্রায় ২৪ বছর আগে পাকিস্তানের পরমাণু বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে ইসলামাবাদের স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর দুই দশক পর দুই রাষ্ট্রনেতার সেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রতিলিপি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ কর্তৃক একটি প্রতিলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৬ জুন, পুতিন এবং জর্জ বুশের মধ্যে ওই বৈঠকটি স্লোভেনিয়ায় হয়েছিল। বৈঠকে বুশের উদ্দেশ্যে পুতিন বলেছিলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র, যেখানে সামরিক কর্মকর্তারা শাসন করেন। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবুও পশ্চিমা দেশগুলি পাকিস্তানের সমালোচনা করে না। দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে উঠে এসেছিল, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিকে সমর্থন করছে পাকিস্তান। এরপর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বুশ এবং পুতিনের বৈঠকে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল পরমাণু অস্ত্র। শুধু পাকিস্তান নয়, বুশ এবং পুতিন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল দুজনের মধ্যে। বুশ বলেছিলেন, এ বিষয় ইজরায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

ইরানের নাতানজে সম্ভাব্য ইজরায়েলের আক্রমণ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈঠকে। বলে রাখা ভালো, ২০২৫ সালের জুন মাসে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রে ‘বাঙ্কার বাষ্টার’ বোমা ফেলা হয়। তবে এই আলোচনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল যে বুশ এবং পুতিন উভয়েই স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তান ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচিতে সহায়তা করছে। শুধু তাই নয়, বুশ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে পুতিন বলেছিলেন, ইরান পাকিস্তান থেকে ইউরেনিয়াম পাচ্ছে। বুশ তাঁর কথায় সহমত পোষণ করেছিলেন। বুশ এবং পুতিন উভয়েই এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। পুতিনে সরাসরি বুশ বলেছিলেন, ‘আমাদের পরমাণু অস্ত্রধারী ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের খুব বেশি প্রয়োজন নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *