ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর স্পষ্ট পাকিস্তান অস্বস্তি। বিষয়টি আরও পরিষ্কার কারণ জানা গেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একের পর এক অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ইসলামাবাদ। ফলে আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল, অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
ইন্ডিয়া টু ডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালাকোট, কোটলি ও ভিম্বর সেক্টরের বিপরীতে সম্প্রতি বসানো হয়েছে একাধিক কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম। এলওসি বরাবর অন্তত ৩০টির বেশি বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট নামানো হয়েছে। এই মোতায়েনের দায়িত্ব রয়েছে মুররিতে অবস্থিত পাক সেনার ১২ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের পাশাপাশি কোটলি-ভিম্বর অক্ষ বরাবর নিয়ন্ত্রণকারী ২৩ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের উপর। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, এলওসি সংলগ্ন আকাশসীমায় নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষমতা আরও জোরদার করা। এই অঞ্চলগুলির নির্বাচন ইঙ্গিত দেয় যে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ড্রোন এবং লঘু অস্ত্রের সক্ষমতা প্রকাশের বিষয়ে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পাকিস্তান এলওসি বরাবর ‘সফট কিল’ ও ‘হার্ড কিল’- দু’ধরনের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিই ব্যবহার করছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্পাইডার’ কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম, যা প্যাসিভ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেকশন ও দিকনির্ণয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছোট লয়টারিং মিউনিশন ও বড় ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি।
এছাড়াও ব্যবহৃত হচ্ছে ‘সাফরাহ’, এটি অ্যান্টি-ইউএভি জ্যামিং গান – কাঁধে বহনযোগ্য এই অস্ত্র ড্রোনের কন্ট্রোল, ভিডিও ও জিপিএস লিঙ্ক বিঘ্নিত করতে পারে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে। এর পাশাপাশি নিচু উচ্চতায় উড়তে থাকা ড্রোন মোকাবিলায় নামানো হয়েছে ওয়েরলিকন জিডিএফ ৩৫ মিমি দ্বৈত নল অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান, রাডার সহায়তায় পরিচালিত ব্যবস্থা এবং আঞ্জা মার্ক-টু ও মার্ক-থ্রি ম্যানপ্যাডস। সেক্টরভিত্তিক ভাবে রাওয়ালাকোট অঞ্চলে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে ২ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড, যারা ভারতের পুঞ্চ সেক্টরের বিপরীতে মোতায়েন। কোটলি অঞ্চলে এই দায়িত্ব সামলাচ্ছে ৩ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড, যার আওতায় রাজৌরি, পুঞ্চ, নৌশেরা ও সুন্দরবনীর বিপরীত এলাকা পড়ে। ভিম্বর সেক্টরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৭ নম্বর আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেডকে। পাক সেনার অন্দরে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’ নিয়ে আশঙ্কাই এই তৎপরতার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘অপারেশন সিঁদুর’
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই গত ৭ মে অপারেশ সিঁদুর অভিযান শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পিওকে-র নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একধিক বায়ু সেনাঘাঁটি। জানা গিয়েছে, পর্যন্ত ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয়েছে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ১০ মে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। তবে এরপরও সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করেনি পাকিস্তান।