Bangladesh Rohingya Arrested। বাংলাদেশের কক্সবাজারে রাইফেলের গুলিসহ ধৃত ৬ রোহিঙ্গা

Spread the love

বাংলাদেশের কক্সবাজারে রাইফেলের গুলি সমেত ৬ জন রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, কক্সবাজারের রামু থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই রোহিঙ্গাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের থেকে উদ্ধার করা হয় জি-০৪ রাইফেলের ২টি বুলেট। এই ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি অলোক বিশ্বাস জানান, ধৃত ৬ জন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকত।

এর আগে কক্সবাজারে সম্প্রতি এক মিনি ট্রাকে করে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন যুবককে। তারা বস্তায় করে ম্যাগাজিন রাখার পকেট নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে মার্চ মাসে কক্সবাজারে আরাকান আর্মির ৬০ জোড়া পোশাক ধরা পড়েছিল বাংলাদেশে। সেই সময় মনে করা হচ্ছিল, অন্তরঘাতমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার জন্যেই এই পোশাক তৈরি করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছিল। এই সবের মাঝেই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে মানবিকতার নামে করিডোর খুলতে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। আবার এর আগে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, উত্তরপূর্ব ভারত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থির করে তোলার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের তৎপরতা ভারতের জন্যেও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সহ ১০ জনকে। নারায়ণগঞ্জে এক বহুতলের ফ্ল্যাটে আরামে থাকত এই রোহিঙ্গা জঙ্গি। হিন্দুদের উপর নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত এই জঙ্গি নেতা আতাউল্লাহ। তাকে আন্তর্জাতিক আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিল মায়ানমারের হিন্দুরা। ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে উত্তর মংডু এলাকায় খা মউংসিক গ্রামে ১০০ জনেরও বেশি হিন্দুকে মেরেছিল এই আতাউল্লাহ। মৃতদের মধ্যে ২৩ জন শিশু ছিল বলে দাবি করা হয়। এহেন আতাউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার এত কাছে ছিল, যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ সরকারেরও কি মদত রয়েছে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের জন্য?

এদিকে সম্প্রতি জানা যায়, রাখাইন ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পার্বত্য জঙ্গলের গভীরে চলছে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষণ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির তরফ থেকে সেই প্রশিক্ষণের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, সশস্ত্র জঙ্গিরা পুরোপুরি সামরিক সজ্জায়। এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে এমনিতে পাকিস্তানের আইএসআই সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে তাদের কাছে পেশাদার সেনার মতো সাজ সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বুথিডাং, মংডু এবং রাথেডাংর মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহরগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়ানমার এবং চট্টগ্রামের সীমান্তে মায়ু পর্বতের জঙ্গলে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের আনাগোনা বেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এই রোহিঙ্গা জঙ্গিরা নাকি মৎস্যজীবী ছদ্মবেশে নাফ নদীর পাশে থাকছে। মংডু শহরেও নাকি লুকিয়ে আছে তারা। আর সময় মতো গভীর জঙ্গলে চলছে তাদের প্রশিক্ষণ। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মৎস্যজীবী ছদ্মবেশে থাকা রোহিঙ্গা জঙ্গিরা আরাকান আর্মির দুই বিদ্রোহীকে খুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। মংডু শহরটি এমনিতে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নাফ নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা সেখানে অরাজকতা ছড়ানোর ছক কষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *