পাকিস্তান এবং আফগান তালিবান শাসনের মধ্যে সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় একটি নতুন মোড় এসেছে। আফগানিস্তানের পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বায়ুসেনার বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পরে কড়া বার্তা দিয়েছে কাবুল। এই হামলায় আফগানিস্তানের তিনজন ক্রিকেটারও নিহত হয়েছেন। এখন তালিবানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এবং গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আসিম মালিকের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দোহাতে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, আফগান পক্ষের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মৌলভি মহম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল শনিবার পৌঁছানোর কথা।
কিন্তু শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তান এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে। তালিবান এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ বলে চিহ্নিত করে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে যে এই সুনির্দিষ্ট বিমান হামলাগুলি তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর ঘাঁটিতে করা হয়েছিল।
কীভাবে এই বিবাদ বাড়ল?
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের মূল অনেক গভীরে নিহিত আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্বটি ১১ অক্টোবর শুরু হয়েছিল, যখন আফগান বাহিনী কুররাম জেলায় পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে গুলি চালায় এবং পাকিস্তান আফগানিস্তানের কান্দাহার ও হেলমন্দ প্রদেশে ড্রোন হামলা চালায়। যেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয় দাবি করা হয়। তালিবান এটিকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ বলে পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটিতে হামলা করে, যেখানে তারা ৫৮ জন পাকিস্তানি ফৌজিকে খতম করে দেওয়ার দাবি করে। পাকিস্তানি সেনার দাবি, এই সংঘর্ষে তাদের ২৩ জন জওয়ান খতম হয়েছেন।
ক্রিকেটারদের মৃত্যুতে ফুঁসছে আফগানিস্তান
তারইমধ্যে শুক্রবার এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে পাকিস্তান। সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম গোপন রাখার শর্তে তালিবানের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। আর পাক্তিকার তিনটি জায়গায় বোমা ফেলেছে। আফগানিস্তান পালটা জবাব দেবে।’ নাম গোপন রাখার শর্তে প্রদেশ হাসপাতালের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে মৃতদের মধ্যে দুই শিশুও আছে। তাছাড়াও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় তিন ক্রিকেটারের মৃত্যু হয়েছে।

সেই ঘটনায় ফুঁসছে আফগানিস্তান। পাকিস্তানের হামলার নিন্দা করেছেন রশিদ খান, গুলবদিন নায়েক-সহ আফগান ক্রিকেটাররাও। তারইমধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান। সরকারের তরফে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যে আগ্রাসন দেখাচ্ছে, তার পালটা দেওয়ার ক্ষমতা আছে কাবুলের। পাকিস্তানি বাহিনী যে কাজটা করছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।