পাকিস্তানি ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি ভারতের ব্রহ্মস মিসাইলের ‘রেঞ্জের’ মধ্যে আছে। এমনই ভাষায় পাকিস্তানকে হুংকার দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। শনিবার ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মিশনের অধীনে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রোডাকশন ইউনিটে তৈরি ব্রহ্মস মিসাইলের প্রথম ব্যাচ উদ্বোধনের পরে রাজনাথ বলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মসের নাগালের মধ্যে আছে।’
অপারেশন সিঁদুর নেহাতই ট্রেলার ছিল, পাকিস্তানকে হুংকার রাজনাথের
শুধু তাই নয়, অপারেশন সিঁদুরে যেভাবে পাকিস্তান নাস্তানাবুদ হয়েছিল, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুরে যা হয়েছে, সেটা স্রেফ ট্রেলার ছিল। আর সেই ট্রেলারই পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারত যদি পাকিস্তানের জন্ম দিতে পারে, তাহলে (আমাদের দেশ) আরও কী করতে পারে, সেটা আমায় আর বলে দিতে হবে না।’
পাকিস্তান ব্রহ্মসের কথা মনে আছে তো?
উল্লেখ্য, ভারতের ‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ডিআরডিও) এনং রাশিয়ান প্রতিরক্ষা সংস্থা NPO Mashinostroyeniya ডিজাইন করেছে ব্রহ্মস মিসাইল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে ভারত যে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল, তাতে ব্রহ্মস মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। কীভাবে ব্রহ্মস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানানো হয়নি। কিন্তু ভারতের ব্রহ্মস মিসাইলে নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মস তাণ্ডব চালিয়েছিল।

নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছিল ব্রহ্মস মিসাইল
অপারেশন সিঁদুরে যে সব স্বদেশি অস্ত্র, মিসাইল ও ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছিলেন যে অপারেশন সিঁদুরের সময় বিশ্ব ভারতের স্বদেশি অস্ত্রের ক্ষমতা দেখেছে। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, মিসাইল, ড্রোন, ব্রহ্মস মিসাইল, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর শক্তি প্রমাণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মস মিসাইল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান পছন্দের অস্ত্র, যা একেবারে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত হেনেছিল।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন যে ব্রহ্মস মিসাইলের নির্মাণ এখন লখনউতে করা হবে। অগস্টে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন, যা সামরিক অভিযানের সময় পাকিস্তানি ড্রোন এবং মিসাইলের মোকাবিলা করেছিল। আর কয়েক মাসের মধ্যেই ব্রহ্মস মিসাইলের উদ্বোধন করা হল।