ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেটে একসময় তাঁদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের সমীকরণ যে আদপেই ‘মধুর’ ছিল না, তা অনেকদিন আগেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। শুটিংয়ের মাঝে ইগোর লড়াই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মাঝপথেই সিরিয়াল ছাড়তে হয়েছিল দিতিপ্রিয়াকে। দীর্ঘ সময় পর সেই পুরনো আগুন ফের জ্বলে উঠল এক রহস্যময় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে।
দিতিপ্রিয়ার ‘সার্কাস’ তোপ
সম্প্রতি দিতিপ্রিয়া রায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইংরেজি কোট শেয়ার করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘যখন কোনো ভাঁড় রাজপ্রাসাদে যায়, সে রাজা হতে পারে না; বরং প্রাসাদটাই সার্কাস হয়ে যায়।’ যদিও দিতিপ্রিয়া সরাসরি কারো নাম নেননি, কিন্তু নেটিজেনদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে তাঁর নিশানায় ঠিক কে! বিশেষ করে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে জীতু কমল যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। নিজের ছবিততে মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানানোয় সমালোচিত হন জীতু। এমনকী চিরদিনই তুমি যে আমার পরিবারের রাজনন্দিনী অর্থাৎ পায়েল দে সরাসরি তোপ দাগেন। সেই পোস্টেও সমর্থন জানান দিতিপ্রিয়া থেকে শিরিন।
জীতুর পাল্টা ‘জোকার’ চাল
কটাক্ষ সপাটে ফিরিয়ে দিতে দেরি করেননি জীতু কমলও। রাজ কাপুরের কালজয়ী ছবি ‘মেরা নাম জোকার’-এর পোস্টার শেয়ার করে অভিনেতা পাল্টা লেখেন, ‘ভাঁড় হওয়া খুব কঠিন কাজ, তুমি কি তা জানো? আশা করি জানো না… শুধু সার্টিফিকেট থাকলেই কেউ জ্ঞানী হয়ে যায় না।’ জীতুর এই ‘সার্কাস’ বনাম ‘জোকার’ লড়াই বুঝিয়ে দিল যে দিতিপ্রিয়ার আক্রমণ তিনি বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন।

পুরনো কাসুন্দি ও বর্তমান তিক্ততা
দিতিপ্রিয়া ধারাবাহিক ছাড়ার পর তাঁর জায়গায় শিরিন পাল এলেও জিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও মাঝেমাঝে প্রশ্ন উঠেছিল। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু পরবর্তী বিতর্কিত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দিতিপ্রিয়া ও পায়েল দে-রা যখন সরব হন, তখন থেকেই এই বিরোধের দ্বিতীয় পর্ব শুরু।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
ভক্তরা এখন দুই মেরুতে বিভক্ত। কেউ দিতিপ্রিয়ার সোজাসাপ্টা কথাকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ জীতুর পাল্টা যুক্তিকে তারিফ করছেন। এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের শেষ কোথায়?