৪ বছরে TMC-র খরচ প্রায় ১৫০ কোটি

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক ব্যয়ের খতিয়ান সামনে আসতেই দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া দলের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চার বছরে বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে তৃণমূল। এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর সংক্রান্ত বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিমান ভাড়া বাবদ দলের খরচ হয়েছিল ৩৫ কোটিরও বেশি। ২০২৩ সালে সেই অঙ্ক কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ কোটি টাকায়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরে খরচ আবার লাফিয়ে বেড়ে ৪৬ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই বছর গোটা নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৮২ কোটি টাকা, যার সিংহভাগই বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার খাতে খরচ হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, ২০২৫ সালে কোনও বড় নির্বাচন না থাকলেও বিমান পরিবহণ বাবদ দলের ব্যয় ৩৭ কোটিরও বেশি হয়েছে।

এই বিপুল ব্যয়কে ঘিরে বিরোধীদের পাশাপাশি দলের একাংশও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একটি আঞ্চলিক দলের পক্ষে বিমান ও হেলিকপ্টার খাতে এত বড় অঙ্কের ব্যয় নজিরবিহীন। তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সারা দেশে প্রচার ও নির্বাচনী কাজে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল। সেখানে একটি রাজ্যভিত্তিক দলের বিমান খাতে একক ব্যয়ই জাতীয় স্তরের দলগুলির খরচের সঙ্গে তুলনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি সফরের বিমান ব্যয় সাধারণত রাজ্য সরকার বহন করে থাকে। ফলে দলের বিমান খরচের বড় অংশই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সফর ও কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক সঙ্কট ও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই চার্টার্ড বিমানে অভিষেকের দিল্লি সফর নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়।

এমনকি তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, পার্টির অর্থে চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অন্যদিকে, দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও সেগুলির লেনদেন পুলিশ ফ্রিজ করে দেওয়ার ঘটনায় দল চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অর্থ ব্যয়ের অগ্রাধিকার এবং নেতৃত্বের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *