আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম বর্ষে কলকাতার রেড রোড থেকে বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং যোগের বিশ্বজনীন দর্শনকে একসূত্রে বেঁধে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই তুলে ধরেন স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং শ্রী অরবিন্দের আদর্শ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যোগকে তিনি কেবল শরীরচর্চা হিসেবে নয়, আত্মবিকাশ ও মানবকল্যাণের এক সামগ্রিক দর্শন হিসেবেই দেখছেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ জুন এখন আর শুধু বছরের দীর্ঘতম দিন নয়, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের ঐক্য ও সুস্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বাংলার নবজাগরণ এবং তার আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার।
মোদী বলেন, ‘আমি এমন এক ভূমিতে এসেছি, যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং শ্রী অরবিন্দের মতো মহাপুরুষরা মানবতার পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের চিন্তাধারা আজও কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, স্বামী বিবেকানন্দ শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের কাছে ভারতীয় দর্শন ও যোগের শক্তিকে তুলে ধরেছিলেন। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিবেকানন্দ মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই একই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় যোগের মধ্যেও।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশই প্রকৃত উন্নতির পথ। যোগ সেই পথকেই সুগম করে। তাঁর মতে, আজকের অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে বিবেকানন্দের ভাবনা এবং যোগের দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
বক্তব্যে শ্রী অরবিন্দের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শ্রী অরবিন্দ বলেছিলেন, ‘আমার সমগ্র জীবনই যোগ।’ এই দর্শন আমাদের শেখায় যে যোগ কোনও নির্দিষ্ট সময়ের অনুশীলন নয়, বরং জীবনযাপনের একটি পদ্ধতি।’ সেই কারণেই বাংলার মাটিতে যোগ দিবস পালন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে মানবিক ঐক্য, আত্মশক্তির বিকাশ এবং বিশ্বশান্তির প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, স্বামী বিবেকানন্দ যে আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী ও মানবকল্যাণমুখী ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার। রেড রোডের মঞ্চ থেকে তাই যোগের পাশাপাশি বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। এরই সঙ্গে যোগ নিয়ে তাঁর পরামর্শ, ‘যোগ আমাদের সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করে। যোগ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রেখে শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার মার্গ দেখায়। ৭০ বছর বয়সে ৫০ বছর বয়সের অনুভূতি দেয়। জীবনশৈলীতে ভারসাম্য আনে। যোগের কথা গীতাতেও শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন। যোগকে কোনও একদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত নয়। একে আমাদের জীবনের অঙ্গ করে নিতে হবে। সমাজ সুস্থ থাকলে দেশও সুস্থ থাকবে।’