বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্কিত মামলায় নতুন মোড়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ‘রেজোলিউশন বুক’-এর হদিস পেল সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে উদ্ধার হয়েছে ওই নথির কপি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এবার ওই বইয়ে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর যাচাই করে দেখবেন গোয়েন্দারা। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এই রেজোলিউশন বুককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছে সিআইডি। কারণ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই নথির একটি কপি জমা পড়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে এবং আরেকটি কপি থাকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছে। তৃণমূলের ক্ষেত্রে সেই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, অর্থাৎ ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা। ঘটনাচক্রে সেটিই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন।
তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েও রেজোলিউশন বুকের সন্ধান মেলেনি। সিআইডি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করে। তবে সূত্রের খবর, তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে ওই বই কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে নথির কপি উদ্ধার হয়।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব সংক্রান্ত রেজোলিউশন জমা পড়েছিল স্পিকারের কাছে। পরে দলের বিদ্রোহী একাংশ অভিযোগ তোলে, যে সমস্ত বিধায়কের স্বাক্ষর ওই নথিতে রয়েছে, তাঁদের অনেকেই নাকি সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে প্রশ্ন ওঠে, সেই স্বাক্ষরগুলি আদৌ আসল কি না। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই বিতর্কের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।