আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম বর্ষে শনিবার কলকাতার রেড রোড সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল দেশের অন্যতম বৃহত্তম যোগ সমাবেশ। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের সূচনার পর এই প্রথম কলকাতা জাতীয় স্তরের প্রধান অনুষ্ঠানের আয়োজক হল। আজকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভোরেই রেড রোডে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা চত্বরে। ঢাকের বাদ্য, ছৌ নৃত্য এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রেড রোডে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। যুবক-যুবতী থেকে প্রবীণ নাগরিক, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে যোগ প্রশিক্ষক— সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতিতে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় রেড রোড। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। একইসঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত পৃথক যোগ কর্মসূচিগুলিতেও ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শহরজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন যোগ সেশনে মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অংশ নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগের বিশ্বজনীন গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২১ জুন এখন শুধু বছরের দীর্ঘতম দিন নয়, এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ঐক্য, সুস্বাস্থ্য ও শান্তির প্রতীক।’ তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং শ্রী অরবিন্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটি যুগে যুগে মানবকল্যাণ ও আত্মজাগরণের বার্তা দিয়েছে।
বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, বিবেকানন্দ মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সামগ্রিক বিকাশের যে দর্শন তুলে ধরেছিলেন, যোগ তারই অন্যতম ভিত্তি। শিকাগোর ধর্ম মহাসভা থেকে যে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, আজ যোগ সেই বার্তাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘যোগ মানুষকে যুক্ত করে, বিভাজন নয়— ঐক্যের পথ দেখায়।’

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যোগ বাংলার বহু প্রাচীন সংস্কৃতির অংশ। স্বামী বিবেকানন্দও যোগ ও আত্মশক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে বহু আগেই বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি জানান, এবারের যোগ দিবস উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন।