সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশ ও সরকারি কর্মীদের উপর হামলা এবং সংগঠিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদনের জন্য পেশ করতে চলেছে। মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র মিললে আসন্ন বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বিল দু’টি উত্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত বিলগুলির মধ্যে একটি হল ১৯৭২ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী। অন্যটি সম্পূর্ণ নতুন আইন, যার নাম রাখা হয়েছে ‘পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল’। রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর আইনি কাঠামো প্রয়োজন।
বর্তমান ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’ মূলত দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, বিস্ফোরক ব্যবহার এবং আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অপরাধ মোকাবিলার জন্য প্রণীত হয়েছিল। সংশোধনের মাধ্যমে আইনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে নতুন ‘পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল’-এর মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় পুলিশ, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও থানায় ঢুকে হামলা, কোথাও সরকারি কর্মীদের ঘেরাও বা মারধরের মতো ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলতায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এমন কড়া আইন আনা হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য হয়।

নতুন বিলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হতে পারে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান। সূত্রের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা বিক্রি করে ক্ষয়ক্ষতির টাকা আদায়ের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এর ফলে ভাঙচুর বা অশান্তির ঘটনায় আর্থিক দায় সরাসরি অভিযুক্তদের উপর বর্তাবে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটেও সমাজবিরোধী ও সংগঠিত অপরাধ দমনে বিশেষ আইন রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত আইন স্থানীয় পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রে খবর, অপরাধের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপকে আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং বিধানসভায় এই বিলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে।