দীর্ঘ ৮ মাস ধরে কোমায় রয়েছেন সার্বত্রিক,সাড় নেই সারা শরীরে।আর সেই স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে পণ নিয়েছেন স্ত্রী সোমা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই জুটি।ভালোবাসার দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ত এই দম্পতিকেই বলে।আজকালকার যুগে যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা অপশন খোঁজে,সেখানে স্বামীকে সুস্থ করে ঘরে আনার জন্য প্রতিদিন চেষ্টা করে চলেছেন স্ত্রী।স্বামীর সাথে স্পেশাল দিনগুলিও সেলিব্রেট করেন সোমা।স্বামীর জন্মদিন হোক বা নিজের,প্রেম দিবস হোক বা রোজ ডে ভালোবাসার সব দিন হাসপাতালের বেডে শোয়া স্বামীর সাথে উদযাপন করেন স্ত্রী। আর সেই মুহুর্তগুলি মন কাড়ে নেটিজেনদের।স্বামীকে সুস্থ করতে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার খরচ হচ্ছে। নিজের সমস্ত সোনা গয়না,বাড়ি বিক্রি করে মানুষজনদের কাছে স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন সোমা।তবুও মনের জোড় একচুল কমেনি।ভালোবাসার জন্য সব কিছু করা যায় তা প্রমাণ করে চলেছেন সোমা।
১২ অক্টোবর ২০২৫ নুনের ভেড়িতে বিজয়া সম্মিলনী থেকে ফেরার সময় এক ক্রসিংয়ে সার্বত্রিক চ্যাটার্জীর ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা হয়।সার্বত্রিক এক লেন থেকে ছিটকে অন্য লেনে পড়ে,আর তাঁর হেলমেট খুলে যায়।যার কারণে বাম দিকের ব্রেন ডান দিকে বসে যায়,ডান চোখ বেরিয়ে আসে।সেই রাত থেকে লড়াই করে চলেছেন সার্বত্রিক।আর তার সাথে সম পরিমাণ লড়াই করছেন স্ত্রী। বাড়িতে তখন ৮ মাসের ছেলে।ঘরে দুধের শিশু, অসুস্থ শাশুড়ি, শ্বশুরকে রেখে প্রতিদিন বহু কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে হাসপাতালে আসেন স্বামীকে দেখতে।এমন একটিও দিন নেই যে সোমা সার্বত্রিকের কাছে আসেননি।জ্বর হলেও দূর থেকে স্বামীকে দেখে চলে যান মেয়েটি।আজ সার্বত্রিক আগের থেকে অনেকটা সুস্থ হয়েছেন,চোখ খুলেছে, তাকাছে।কিন্তু কোনও কিছু বোঝাতে পারছেন না।হাত,পা গুটিয়ে রাখছে সবসময়,যার কারণে ডাক্তারের চিন্তা পরবর্তীকালে হাঁটতে পারবেন কিনা? এর কারণে বোটক্স করাতে বলা হয়েছে সার্বত্রিককে।যার খরচ প্রায় ১ লাখ।সোমার কাছে অবশিষ্ট কিছু নেই,যা তিনি আর বিক্রি করবেন।এখন চ্যাটার্জী পরিবারের ভরসা শুধু আপনারা।ছোট্ট দুধের শিশুর কাছে তাঁর পাপাকে ফেরাতে পারবেন শুধু আপনারা। যতটা আপনাদের সামর্থ্য ততটা পিন কমেন্টে থাকা ডিটেইলসে পাঠিয়ে স্ত্রী, ছোট শিশু ও বৃদ্ধ বাবা,মায়ের কাছে তাঁদের ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পাশে থাকুন।এই দান আপনার বৃথা যাবে না।
