TMC Parliamentary Party Split Update। ৮ জুন দিল্লিতে তৃণমূলে বড় ভাঙনের জল্পনা

Spread the love

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূল কংগ্রেসে সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে যখন বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা, তখনই লোকসভায় তৃণমূলের একাংশের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাচক্রে ওই দিনই সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকবেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নিতে রাজধানীতে উপস্থিত থাকার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এদিকে সংবাদ প্রতিদিনের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দফা রাজনৈতিক আলোচনা ও বৈঠকের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে’। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের এক সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে আলোচনাও হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে লোকসভার স্পিকারের কাছে সাংসদদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

এই আবহে লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, দলের ভিতরে অসন্তোষ থাকতেই পারে এবং তিনি নিজেও কিছু বিষয়ে মতভেদ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁকে ঘিরে যে সমস্ত দাবি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই।

রাজ্যসভাতেও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর মতে, বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দলে থাকলেও মানসিকভাবে নিজেকে দলের সঙ্গে একাত্ম মনে করছেন না। সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে—বর্তমান অবস্থায় থাকা, দল ছাড়া অথবা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া। সময়মতো তিনি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানিয়েছেন।এদিকে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বলেছেন, দলের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের অধিকার সকলের রয়েছে, তবে সেই অবস্থান নিলে নির্বাচিত পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। অন্যদিকে, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে দলনেত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, দলের নেতৃত্বের উপর মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে। ফলে ৮ জুনের দিল্লি শুধু ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের জন্য নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সাংসদদের পরবর্তী অবস্থান নিয়েও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *