বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম-নির্দেশের পরেও বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কোনও হেলদোল নেই রাজ্য সরকারের। বরং ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। সেখানে তাদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই নিয়ে তাদের যুক্তি ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের সার্ভিস বুক খুঁজে বার করতে অনেকটা সময় লাগবে। এহেন পরিস্থিতিতে নাকি ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের আগে তারা কোনও ভাবেই ডিএ দিতে পারবে না।
রাজ্যের বক্তব্য, ডিজিটাল দ্ধতিতে বেতনের রেকর্ড শুধুমাত্র ২০১৬ সাল থেকে উপলব্ধ। এর আগের সমস্ত হিসাবের জন্য হাতে লেখা ছিল ‘সার্ভিস বুক’। তাই তা পরীক্ষা করতে সময় লাগবে। এদিকে বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। ২০০৮ সাল থেকে যে ডিএ এরিয়ার রয়েছে, সেটা যে কোনও মূল্যে মিটিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থ মার্চের মধ্যেই মেটাতে হবে। এবং বাকি ৭৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাকি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে হবে রাজ্যকে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যে মামলাটি চলছে, সেটা পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত। ২০১৬ সাল থেকে সেই মামলা চলছে। এই মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল, কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। প্রথমে স্যাটে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার। তারপর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে জয় পেয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। এর আগে ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কারণ, ২০২৫ সালেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ সরকার মানেনি। এই আবহে এই মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারকে কার্যত ‘মহাজন’ আখ্যা দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
