মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বছর ৪৮-এর পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্টকে। এই আসিফকে নিয়োগ দিয়েছিল ইরানি গুপ্তচররা। ব্রুকলিনের একটি আদালতে জুরি তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আসিফ মাচেন্ট অবশ্য দাবি করেছিল, ইরান তার পরিবারকে খতম করে দেওয়ার ‘হুমকি’ দিয়েছিল, তাই সে এই ষড়যন্ত্রের অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুন মাসে কুইন্সের ফ্লোরাল পার্ক মোটর লজে বসে আসিফ মার্চেন্ট তার এক সহযোগীর সাথে ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছিল। একটি রিপাবলিকান সমাবেশে ট্রাম্পকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল তারা দুজনে। তবে আসিফ মার্চেন্টের সহযোগী আসলে একজন এফবিআই তথ্যদাতা ছিলেন। এই আসিফ মার্চেন্ট একজন প্রাক্তন ব্যাঙ্কার। ভাড়াটে খুনি (হিটম্যান) ছদ্মবেশে থাকা দুই গোপন এফবিআই এজেন্টকে পাঁচ হাজার ডলার করে অগ্রিম দিয়েছিল এই আসিফ। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এই আসিফ মার্চেন্ট পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানে থাকাকালীন ২০২২ সালের শেষের দিকে বা ২০২৩-এর গোড়ার দিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হয়ে কাজ শুরু করেছিল সে। এই সময়কালে তাকে ‘ট্রেডক্রাফ্ট’ (গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা পদ্ধতি) সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। আসিফ মার্চেন্ট আদালতে স্বীকার করে যে সে জানত যে আইআরজিসি একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন। এই প্রশিক্ষণ শেষ করার পরে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় তার ইরানি হ্যান্ডলার।

আসিফ জানায়, তার হ্যান্ডলার স্পষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করেনি, তবে তিনটি সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকা দিয়েছিল তাকে। তাতে নাম ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন এবং নিকি হ্যালির। এদিকে মার্চেন্টের আইনজীবী আভি মস্কোভিটজ এই চক্রান্তকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে মার্চেন্ট অনুভব করেছিল যে ইরানে তার পরিবার বিপদে রয়েছে, তাই সে কেবল এই পরিকল্পনার অংশ হওয়ার ভান করেছিল। যদিও এফবিআই এজেন্ট আদালতকে বলে যে মার্চেন্ট তার গ্রেফতারির পরে কোনও হুমকির কথা উল্লেখ করেনি। বরং জেরায় মার্চেন্ট নাকি জানিয়েছিল, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে হত্যা করার ছক কষেছিল সে।