এমনিতে রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে একাধিক জটিলতা আছে। তাই আরও সময় লাগবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে যুক্তি পেশ করা হয়েছে।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) প্রদানের জন্য আরও সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেই আবহে নয়া একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা দাবি করেছেন, রাজ্য সরকারের তরফে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার যে হিসাব পেশ করা হয়েছে, তাতে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি। সেই হিসাব থেকেই স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেবে না। আর তার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষক সমাজের
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘এই হিসাব বলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেবে না। এর ফলে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী সমাজের ক্ষোভের আগুন ব্যাপকভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান বদলাক। না হলে আইনি লড়াই এবং রাস্তার লড়াই আরও তীব্রতর হবে।’
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তাতে জানানো হয়েছে যে ওই সময়ের মধ্যে মোট সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা হল ৩,১৭,৯৫৪ জন। একইভাবে বছর ধরে-ধরে পেনশনভোগীর সংখ্যা কত, তা প্রকাশ করা হয়েছে স্টেটাস রিপোর্টে। কিন্তু শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা
১) গ্রুপ ‘এ’ কর্মী: ৫২,১৩০
২) গ্রুপ ‘বি’ কর্মী: ৯৮,০২৭
৩) গ্রুপ ‘সি’ কর্মী: ১,১০,০১৮
৪) গ্রুপ ‘ডি’ কর্মী: ৫৭,৭৭৯
৫) মোট কর্মী: ৩,১৭,৯৫৪
বকেয়া ডিএ মামলায় রাজ্যের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি
এমনিতে রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে একাধিক জটিলতা আছে। তাই আরও সময় লাগবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে যুক্তি পেশ করা হয়েছে।