পরপর দু’দিন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফের শনিবার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এই তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কম্পন অনুভূত হওয়ার পর বহু মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ও বহুতল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর ঠিক একদিন আগেই, শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে। তুলনামূলকভাবে গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও দেশের একাধিক এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছিল। পরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করায় এই অঞ্চলে প্রায়শই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের অন্তর্ভুক্ত। যদিও এবারের দুই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।

অতীতে ভয়াবহ কম্পনে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কোথাও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।