মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তৃৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সূত্রের খবর, নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে বেছে নেওয়া হয়েছে। আবার কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামানকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আবার সংবাদমাধ্যম টিভি নাইন বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সহ-সভাপতি করা হয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমকে। তাছাড়াও অরূপ বিশ্বাস (যিনি কয়েক ঘণ্টা আগেই দাবি করেছিলেন যে তিনি মমতা শিবিরে আছেন) এবং রথীন ঘোষ হয়েছেন সহ-সভাপতি।
মহারাষ্ট্র মডেল ধরেই এগোচ্ছেন ঋতব্রতরা?
আর পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ঋতব্রতরা ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ কার্যকর করতে চাইছেন। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে বেরিয়ে এসে একনাথ শিন্ডে শিবির যেভাবে নিজেদের ‘আসল’ শিবসেনা বলে দাবি করেছিল, পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক সেই কাজটাই করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ঋতব্রতরা। সেক্ষেত্রে মমতাদের হাতছাড়া হতে পারে ঘাসফুল প্রতীকও।
ঋতব্রতদের স্পেশাল বৈঠকে ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও
তবে সেখানেই মমতাদের বিপদ শেষ হচ্ছে না। কারণ আজ বাজেট অধিবেশনের শেষে বিদ্রোহী বিধায়করা নিউ টাউনের যে হোটেলে বিশেষ বৈঠকে বসেন, সেখানে কলকাতার প্রায় ৭০ সদ্য প্রাক্তন (মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদের ইস্তফার পরে কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে কয়েকদিন আগেই) তৃণমূল কাউন্সিলরও হাজির ছিলেন। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কারণ ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে ডিসেম্বেরর মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমে নয়া বোর্ড গঠিত হবে। অর্থাৎ মাসকয়েক পরেই ভোট হবে। তার আগে জুঁই বিশ্বাস-সহ পরিচিত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলররা (যাঁরা একটা সময় মমতার আশপাশে থাকতেন, সেরকম একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর) যে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন, তাতে চিন্তা বাড়বে মমতা-অভিষেক শিবিরের। যে মমতা এবং অভিষেক একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর।