জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ’ (Lock Upp)-এর মঞ্চে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং মানসিক টানাপোড়েন নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চামোল্লা (Akanksha Chamola)। ‘সন্তোষী মা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী শো-এর প্রিমিয়ারেই খোলসা করেছিলেন যে, প্রায় এক দশকের দাম্পত্যের পর স্বামী গৌরব খান্নার থেকে আলাদা হচ্ছেন তিনি। এই ডিভোর্সের ঘোষণা সকলকে চমকে দিয়েছিল।
এবার শো-এর সাম্প্রতিকতম পর্বে নিজের বদলে যাওয়া যৌনতা (Sexuality) এবং ডিভোর্সের পেছনের আসল কারণ নিয়ে সহ-প্রতিযোগী বরুণ যাদবের কাছে মন খুললেন আকাঙ্ক্ষা।
‘ডিভোর্স চলছে, এখন আমার কারোর সাথেই সেক্সের ইচ্ছে নেই
লক আপের সেলের ভেতরে বরুণ যাদবের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলার সময় আকাঙ্ক্ষা জানান যে তিনি আর কখনো বিয়ে করতে চান না, কারণ তাঁর মনে একটা গভীর ভয় বসে গিয়েছে। এরপর তাঁকে সেক্সুয়ালিটি বা যৌনতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সহজভাবে বলেন, ‘যৌনতা সময়ের সাথে সাথে বদলাতে থাকে। এটা মূলত জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমার এখন বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে আমার কারোর সাথে শারীরিক সম্পর্কের কোনো চাহিদা নেই— না মেয়েদের সাথে, না পুরুষদের সাথে। আমার এখন সম্পূর্ণ আলাদা একটা ফেজ চলছে, আর এটাকে বলে অ্যাসেক্সুয়ালিটি (Asexuality)।’
‘মা হওয়ার ইচ্ছে নেই’— সন্তান নিয়ে গৌরবের সাথে দূরত্ব
এর আগে আকাঙ্ক্ষা নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে তাঁর মধ্যে কোনোদিনও ‘মাতৃত্বের টান’ (Maternal Instinct) ছিল না। অভিনেত্রীর কথায়, প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ বিয়ে করেন সংসার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং সন্তান নেওয়ার জন্য। গৌরব সন্তান চেয়েছিলেন, তিনি নিজের জায়গায় ভুল ছিলেন না। কিন্তু আকাঙ্ক্ষার পক্ষে স্বামীকে সন্তান দেওয়া সম্ভব ছিল না।
অভিনেত্রী জানান, ‘বিগ বস’ (Bigg Boss) শো-এর সময় তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে গৌরবের এই সন্তানের চাহিদাটা প্রচণ্ড বেশি, যা তিনি পূরণ করতে পারছেন না। গৌরবকে এই দোটানায় ফেলে কষ্ট দিতে চাননি বলেই তিনি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘আমি উভকামী’— মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ
গৌরবের সাথে বিয়ের আগে থেকেই যে তিনি নারীদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতেন, সে কথাও স্বীকার করেছেন আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমি উভকামী (Bisexual)। আমি মেয়েদের পছন্দ করি, তাদের প্রতি আকৃষ্ট হই। বড় হয়ে ওঠার দিনগুলোয় পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে মা-বোনদের সান্নিধ্যই আমার সেফ স্পেস ও কমফোর্ট জোন ছিল। সমাজ বলে মেয়েরা নাকি একে অপরের বন্ধু হতে পারে না, হিংসে করে। কিন্তু আমার কাছে সব নারীই সুন্দর, আমার কাছে এটা অত্যন্ত পবিত্র এক ভালোবাসা।’