Aman Sanger Net Worth। ২৫ বছরেই ৫১.৯৮ হাজার কোটি টাকার মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমন

Spread the love

Aman Sanger Net Worth: বলা হয়, সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ চিনে নেওয়ার নামই ব্যবসা। তবে মাত্র ২৫ বছরেই সিলিকন ভ্যালিতে এমন এক ইতিহাস তৈরি হবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স রেকর্ড ৬০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি) বিনিময়ে কিনে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক কোডিং স্টার্টআপ ‘কার্সার’-এর মূল সংস্থা অ্যানিস্ফিয়ার। আর এই একটিমাত্র ঐতিহাসিক চুক্তির হাত ধরে রাতারাতি বিশ্বমঞ্চের অন্যতম কনিষ্ঠ বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা আমন সাঙ্গার।

ছোটোবেলা থেকেই কোডিংয়ের নেশা ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড

আমনের জন্ম নিউ ইয়র্কে। বাবা অরবিন্দ আইআইটি বম্বের প্রাক্তন ছাত্র এবং ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ‘জিওস্ফিয়ার ক্যাপিটাল’-র প্রতিষ্ঠাতা। মা শিল্পা পেশায় একজন অর্থোডেনটিস্ট। আমন মাত্র ১৪ বছর থেকেই কোডিং করা শুরু করেন। গণিত ও কম্পিউটারে অসম্ভব পারদর্শী আমন ২০১৭ সালে স্যাট (SAT) পরীক্ষায় ম্যাথমেটিক্স লেভেলে পুরো ৮০০ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

MIT ড্রপ-আউট: ডিগ্রি ছেড়ে স্বপ্নের পথে হাঁটা

২০১৮ সালে আমন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোয়াশ টিমের একজন খেলোয়াড়ও ছিলেন। এমআইটিতে পড়ার সময়ই তাঁর আলাপ হয় মাইকেল ট্রুয়েল, সোয়ালেহ আসিফ এবং আরভিড লুনেমার্কের সঙ্গে। ২০২২ সালে যখন বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন জোয়ার আসছিল, তখন এই চার বন্ধু বুঝতে পারেন যে সফটওয়্যার তৈরির দুনিয়াটা চিরতরে বদলে যেতে চলেছে। সেই সুযোগ হাতছাড়া না করতে আমন এবং তাঁর বন্ধুরা এমআইটির পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দেওয়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

কী এই ‘কার্সার’ এবং কেন এটি এত মূল্যবান?

বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আমন ও তাঁর বন্ধুরা মিলে গড়ে তোলেন ‘অ্যানিস্ফিয়ার’ নামের একটি স্টার্ট-আপ এবং এর অধীনে তৈরি করেন এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম ‘কার্সার’। এটি সাধারণ কোনও কোডিং টুল নয়; এটি এমন এক শক্তিশালী কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট যা প্রোগ্রামারদের সাধারণ ভাষায় দেওয়া নির্দেশ বুঝেই নিমেষে জটিল থেকে জটিলতর সফটওয়্যার কোড লিখে দিতে পারে, ভুলত্রুটি ধরতে পারে এবং পুরো প্রজেক্ট বিশ্লেষণ করতে পারে।অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বড়-বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন এনভিডিয়া, অ্যাডোব, উবার , শপিফাই এবং পেপ্যালের মতো প্রায় ৫০,০০০ কোম্পানির লাখ-লাখ ডেভেলপার কার্সার ব্যবহার করা শুরু করেন। কোম্পানির বার্ষিক আয় দ্রুত ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এআই সংস্থায় পরিণত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *