আনন্দপুরে মোমোর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। শুধুই মোমো নয়, সংশ্লিষ্ট গোডাউনে একটি ডেকরেটর্স সংস্থার কর্মীরাও কাজ করতেন। ঘটনায় নিখোঁজ ১৩ জন। আগুন লাগার ১০ ঘণ্টা পরে সেখানে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তবে দেখা নেই দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। ঘটনাস্থলে গিয়ে অরূপ বলেন, ‘আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে, তবে সেখান থেকে ধোঁয়াটা বের করতে হবে।’ তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে আগুন লেগেছিল আনন্দপুরের কারখানায়। ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেখানে আগুন জ্বলে।
প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, মোমো তৈরির কারখানায় প্রচুর পরিমাণ পামতেল মজুত করা ছিল। তা থেকেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এদিকে কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী অরূপ চটে যান সাংবাদিকদের ওপরে। তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন কীভাবে করছেন? আমি কীভাবে এর উত্তর দেব? পুলিশ-প্রশাসন-দমকল ঢুকবে, তারপর তো উত্তর পাওয়া যাবে। এখনই বলে দিতে হবে কী ছিল, কী ছিল না? তা হলে তো আমাকেই তদন্তে নেমে পড়তে হবে।’ এই নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল শাসিত সরকারকে। তিনি বলেন, ‘সরকার প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি কাটাচ্ছে।’
এদিকে নাইট শিফ্টে কারখানার মধ্যে থাকা কর্মীদের অনেকেরই কোনও খোঁজ নেই। প্রাথমিকভাবে তিনজন কর্মী নিখোঁজ হয়ে বলে মনে করা হচ্ছিল। পরে জানা যায়, মোমোর কারখানা এবং ডেকোরেটার্স কর্মী মিলিয়ে মোট ১৬ জন কারখানায় ছিলেন নাইট শিফটে। এর মধ্যে তিনজনের দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৩ জনের এখনও খোঁজ মেলেনি। তবে এই সংখ্যা প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। কারখানায় আটকে পড়া এক ব্যক্তির আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শেষবার তিনটের সময় তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর জামাইয়ের। কারখানায় নাকি বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল বলে বেরোতে পারছে না বলে জানিয়েছিলেন তাঁর জামাই। সেখানে জড়ো হওয়া অনেকেরই অভিযোগ, কারখানায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল।
