Anti-paper leak bill changes: হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিল। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, তারপরে গত সোমবার প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। যে বিলের পোশাকি নাম হল ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিস) অ্যামেডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (Public Examination – Prevention of Unfair Means Amendment Bill, 2026)। ওই সংশোধনী বিলে শাস্তি এবং জরিমানার অঙ্কটা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাছাড়াও ২০২৪ সালের মূল আইনের থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বিলে।
কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধন করা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে?
১) প্রস্তাবিত আইনের আওতায় যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেটা বিচারের জন্য যে কোনও দায়রা আদালতকে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের মনোনীত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে।
২) এই ধরনের স্পেশাল ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিচারপ্রক্রিয়া রোজ চালাতে হবে। আর চার্জশিট দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
৩) যে কোনও অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
৪) প্রস্তাবিত আইনের আওতায় দু’মাসের মধ্যে অপরাধের তদন্ত সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৫) মামলা চালানোর জন্য প্রত্যেক রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এক বা একাধিক বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
৬) হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের কাছে কোনও রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ব্যবস্থা আছে। আপিল গ্রহণের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার বিধান রাখা হয়েছে এই প্রস্তাবিত আইনে।
৭) প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অসদুপায় অবলম্বনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। জরিমানা হতে পারে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
৮) সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে, এই বিলে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শাস্তির থেকে বেশি জোর দেওয়া উচিত প্রশ্নফাঁস রোধে, দাবি বিরোধীদের
আর সেই বিলের প্রেক্ষিতে বিরোধীরা দাবি করেছেন, কীভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, তার থেকে বেশি করে জোর দেওয়া উচিত প্রশ্নফাঁস রোখার উপরে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলে তার ঠিক উলটোটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।