পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকে নীতি আয়োগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি সুমন বেরির স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ ছাড়া গোবর্ধন দাসকে নীতি আয়োগের সদস্য করা হয়েছে। তিনিও বাংলা থেকে এসেছেন। উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের মাঝখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অশোক লাহিড়ী ২০২১ সালে বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। উল্লেখ্য, পদমর্যাদার নিরিখে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমকক্ষ। প্রসঙ্গত, নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে। এবার তাঁর অধীনে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করবেন বাংলার বিদায়ী বিধায়ক।
অশোক লাহিড়ী এর আগে ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পদে দায়িত্বে সামলেছিলেন। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, বন্ধন ব্যাঙ্ক এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসির প্রধানও ছিলেন। অশোক লাহিড়ী বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি পঞ্চদশ অর্থকমিশনের সদস্যও ছিলেন।
এদিকে বাংলার বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও নীতি আয়োগের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র গোবর্ধনকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু ভোটে জিততে পারেনি তিনি। এবার তাঁকেও টিকিট দেয়নি বিজেপি। গোবর্ধন দাস ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ডিরেক্টর। এই পদে আসার আগে তিনি নতুন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্পেশাল সেন্টার ফর মলিকিউলার মেডিসিন’-এর অধ্যাপক এবং চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল। বাংলা দখলের জন্য ঝাঁপানো বিজেপি দুই বাঙালিকে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় তাই অনেকেই রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস খুঁজছেন।\
