বঙ্গ ভোটের দ্বিতীয় দফার ভোটপর্বের আগে প্রচারের সূর্য কার্যত মধ্য-গগনে। রাজ্যে শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের পর পর ঝোড়ো সভা সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, বেলা গড়াতেই হাওড়ার সভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে বারুইপুরের সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। দুপুর গড়াতেই তার পাল্টা জবাব দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও শুক্রের সকালে নরেন্দ্র মোদীর গঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের পর শুক্রবার হাওড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’ আজকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন… আমি মনে করি ছাত্র সমাজ যুব সমাজের প্রতিবাদ করা উচিত। আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। এক পয়সাও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছ? তুমি কি জানো, যাদবপুর বিশ্বিবদ্যালয় নম্বর ১ ব়্যাঙ্কে আছে।’ এক্ষেত্রে মমতার ভাষণে সেন্ট জিভিয়ার্স, প্রেসিডেন্সির প্রসঙ্গও আসে।
এছাড়াও নরেন্দ্র মোদীর এদিন সকালে গঙ্গাবক্ষে নৌকায় চড়ে সফর করার ঘটনা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,’আজকে নাকি উনি নৌকাবিহার করেছেন! আমি বলি.. বাংলার গঙ্গা আর দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার। তাই নৌকাবিহার করে হাওয়া খেয়েছেন সকালবেলায়। এটা ভোটের রাজনীতি!’ মমতা একইসঙ্গে বলেন,’চ্যালেঞ্জ করছি, গঙ্গায় নৌকাবিহার করেছেন, ভালো করেছেন। আপনাকে স্বাগত। আমিও যাই চন্দননগরে পুজোর সময় গঙ্গাবিহার করতে করতে। আমি গঙ্গাসাগরেও যাই।’
খোঁচার সুর চরমে রেখে মমতা বলেন, ‘আপনি একবার যমুনা নদীতে গিয়ে দিল্লিতে ডুব দিয়ে আসবেন। দিল্লির যমুনা পুরো দূষিত। আপনি দিল্লির যমুনা সামলাতে পারেন না, আর আমাদের গঙ্গায় এসে ফটো তুলছেন!’ এরপর স্বভাবসিদ্ধ ভাবে মহিলা ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হন বিজেপি ও মোদীর বিরুদ্ধে।
