Bangladesh Concert Vandalized। ছায়ানট, উদীচীর পর হামলা জেমসের কনসার্টে

Spread the love

ইসলামি কট্টরপন্থীদের কাছে সঙ্গীত নাকি ‘হারাম’। এর আগে তাই বাংলাদেশে ছায়ানট থেকে উদীচীতে হামলা হয়েছে। আর এবার ফরিদপুরে জনপ্রিয় গায়ক জেমসের কনসার্টে হামলা হল। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন জখম হয়েছন বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলা স্কুলের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল জেমসের কনসার্টের। সেখানেই ‘বহিরাগতরা’ হামলা চালায়। সেই সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ ৩০ জন জখম হন। আহতদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র। ২৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ এই হামলা শুরু হয়েছিল।

অভিযোগ, হামলাকারীরা মঞ্চ দখল করে নেয়। যদিও গায়ক জেমসের কোনও ক্ষতি হয়নি। তিনি নিরাপদে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এই হামলা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের মিডিয়া সাবকমিটির আহ্বায়ক রাজিবুল হাসান খা বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জেমসের অনুষ্ঠানটি সফল করতে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কেন, কী কারণে, কারা হামলা করল, বুঝতে পারলাম না।’ এদিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শামিম বলেন, ‘হামলার পর ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।’

এদিকে ঘটনাটিকে ‘হালকা’ করে দেখানোর জন্য আয়োজকদের তরফ থেকে পরে গভীর রাতে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানস্থলে না ঢুকতে পেরেই নাকি এই হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। যদিও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দুটো বড় স্ক্রিনে জেমসের গান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে, যদি অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকাই উদ্দেশ্য হবে, তাহলে মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন হয়? এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বাংলাদেশির দাবি, এটা জামাতপন্থীদের হামলা ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের সেই ‘বিপ্লবে’ জেমস শেখ হাসিনার বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছিলেন। তবে ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশে এবার তাঁর কনসার্ট পণ্ড হল।

এদিকে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অবশ্য পুলিশ আসার আগে নাকি অনুষ্ঠানে আগত ছাত্ররাই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই আবহে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এখনও কোনও হামলাকারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *