বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের খুনের ঘটনায় আরও এক কট্টরপন্থীকে গ্রেফতার করল সেই দেশের পুলিশ। ধৃতের নাম মহম্মদ রাজীব। গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় মহম্মদ রাজীবকে। দীপু খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল মহম্মদ রাজীব। দড়ি দিয়ে দীপুর দেহ গাছে ঝোলানোর সময় সে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছিল। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান জারি রেখেছে পুলিশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ধৃতদের মধ্যে ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছে এই মামলায়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে মারা হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে তাঁকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ। মৃত দীপু তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় শ্রমিক ছিলেন। সেই কারখানাতেই নাকি পিটিয়ে খুন করা হয় দীপুকে।
পরে দীপুর মৃতদেহ এরপর ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়েতে নিয়ে যায়। সেখানে রাস্তার পাশে তাঁর মৃতদেহ ফেলে রেখে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনার জেরে রাস্তা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অনেকক্ষণ পরে যায়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপুচন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। বাংলাদেশে ‘মব সংস্কৃতি’ ক্রমেই আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এছাড়া সেই দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারও থামছে না। ময়মনসিংহের সেই ঘটনা তারই অন্যতম উদাহরণ ছিল। অবশ্য এরপর থেকেও বাংলাদেশে হিন্দু নিধন জারি থেকেছে। গত ২৩ জানুয়ারি দীপু চন্দ্র দাসের মত আরও এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে নরসিংদীতে।
