ইরানে আমেরিকা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতে ইরানও প্রস্তুত হচ্ছে। এই সবের মাঝেই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি মোদী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ইরানের বিরুদ্ধে আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে ভারত। ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে চিন ও পাকিস্তানও ইরানের পক্ষে এবং প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। এই কারণেই ভারতকে ধন্যবাদ জানাল ইরান।
উল্লেখ্য, চলমান ইরানি প্রতিবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি রেজোলিউশন পেশ করা হয়েছিল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে। মূলত পশ্চিমি দেশগুলি সেই প্রস্তাবনা পেশ করে। আর সেই প্রস্তাবনা নিয় ভোটাভুটি হলে পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতও ‘না’ ভোট করে। ইরানের প্রতিবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হ্যা ভোট করে ব্রিটেন, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র সহ মোট ২৫টি দেশ। এদিকে না ভোট করে চিন, কিউবা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান। মোট ৭টি দেশ না ভোট করে। এদিকে ভোটদান থেকে বিরত থাকে কুয়েত, মিশর, ব্রাজিল, কাতারের মতো ১৪টি দেশ।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরে ইরানে নাগরিক বিক্ষোভ জারি রয়েছে। ইসলামি শাসকদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। ইরানি মোল্লাহদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ খুন হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে আন্দোলনকারীদের এর আগেও ‘সাহায্যের’ বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দখলের জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীদের। এমনকী সামরিক পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু অবশ্য ট্রাম্প করেননি। বরং উলটে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়েছেন তিনি। তবে এবার তিনি দাবি করেন, ইরানের দিকে নাকি বড় বাহিনী যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে এসেছেন। তবে সেই বিক্ষোভ কিছুটা কমেছে। এরই সঙ্গে ইরানি বাহিনীর নৃশংসতাও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সুর কিছুটা নরম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএ) বলেছে যে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মৃত্যু নিশ্চিত করা গিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা শত শত নিরাপত্তা কর্মীসহ পাঁচ হাজারেরও বেশি লোকের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।