নদিয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন অবৈধবাসী বাংলাদেশিকে পাঠানো হল বাংলাদেশে। বিএসএফ এই অবৈধবাসীদের পুশব্যাক করেছে সীমান্তে। ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, সেই ১৪ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ২টি শিশু আছে। এই অবৈধবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ওড়িশায় থাকত বলে জানা গিয়েছে। পরে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ গ্রেফতার করে। নদিয়ার সীমান্তে পাঠানো হয় তাদের।
আপাতত এই অবৈধবাসীরা ওপারে দর্শনায় বিজিবির হেফাজতে আছে। তাদের পরিচয় যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। জানা যায়, বিএসএফ এই অবৈধবাসীদের সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার পর তারা দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যায়। পরে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে বিজিবি। এই ১৪ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয় মেডিক্যাল চেকআপের জন্য।
এদিকে রাজ্যে ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বহু অবৈধবাসী বাংলাদেশি নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সীমান্তে ভিড় জমিয়েছিলেন। এই আবহে কয়েক হাজার বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই নাকি কলকাতা এবং আশেপাশের এলাকায় বহু অবৈধভাবী বাংলাদেশি পালিয় গিয়েছে। এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। এই আবহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের কাছে হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় চোখে পড়েছিল। এদের অনেকের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল। আবার অনেকের কাছে কোনও নথি নেই। তবে এই সকলেই অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন বছরের পর বছর।

প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই ক্রমাগত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরে ধরে পুশ ব্যাক করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে প্রথমদিকে বেশ আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন সেরকম কোনও আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না কাঁটাতারের ওপার থেকে। এদিকে বাংলাদেশিদের পুশব্যাক করার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভারতীয় মুসলিমদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করা হচ্ছে। এই নিয়ে বীরভূমের বাসিন্দা সোনালির উদাহরণ তুলে ধরছে তারা। তবে বাংলাদেশি অবৈধবাসীদের ওপারে পাঠানোর কাজ জারি রেখেছে বিএসএফ।