Bangladeshi on India। ‘ভারত পায়ে ধরে ভিক্ষা চাইবে, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম…’

Spread the love

একদিকে যখন বাংলাদেশে যখন অশান্তি ও অরাজকতা চলছে, তখন অন্যদিকে কমেডি শো চালু করে ফেলেছে একদল ‘কচি বিপ্লবী’। তাঁরা মাঝেমধ্যে এমন সব কথা বলেন, যা শুনে মনে হয় যে এঁরা ময়দানে নামলে তাবড়-তাবড় কমেডিয়ানদের শো বন্ধ হয়ে যাবে। আর সেই হাস্যকর কথার তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করে ফেললেন আরও এক বাংলাদেশি। তিনি দাবি করলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের যদি প্রত্যর্পণ না করা হয়, অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে ধাক্কা দেবে বাংলাদেশ। ভারতীয় পণ্য ছাড়াই বাংলাদেশ চলতে পারবে। এখন ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ, সেটা কমিয়ে যদি এক-চতুর্থাংশ করে দেওয়া হয়, তাহলে নাকি নয়াদিল্লি ঢাকার পায়ে পড়বে। ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন ওই বাংলাদেশি।

স্বার্থসিদ্ধির জন্য ‘কচি বিপ্লবী’-দের ভারত-বিরোধী কথা

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এইসব ‘কচি বিপ্লবী’-রা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বিপথে চালিত করছেন। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে ভারত-বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। আর তাতে একটি অংশের থেকে প্রচুর হাততালি জুটিয়ে লাইমলাইটে উঠে আসছেন। অথচ বাস্তবে এইসব ‘কচি বিপ্লবী’-রাও জানেন যে ভারত যদি হাত তুলে নেয়, তাহলে হাহাকার অবস্থা পড়ে যাবে বাংলাদেশে। যে বিষয়টা মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও খুব ভালোভাবে জানে। কিন্তু ‘কচি বিপ্লবী’-দের সমর্থন পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের কুর্সি বাঁচিয়ে রাখতে মাঝেমধ্যে ভুলভাল কথা বলে যাচ্ছে।

‘কচি বিপ্লবী’-দের কথায় উঠছে-বসছে ইউনুস সরকার?

এই যেমন আজ ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম দাবি করেন যে হাদির খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত এবং তাঁর সহযোগী ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। আর তাঁদের ভারতে ঢুকতে সহায়তা করেন দুই ভারতীয় যুবক। মেঘালয় পুলিশ তাঁদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছেন বলে দাবি করেন ইসলাম।

হাদির খুনিদের নিয়ে মিথ্যে দাবি বাংলাদেশের

যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দাবি উড়িয়ে দেন মেঘালয় পুলিশের এক শীর্ষকর্তা। হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশের থেকে সরকারিভাবে বা ঘরোয়াভাবে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি। রিপোর্টে যে অভিযুক্তদের নাম করা হচ্ছে, তাঁদের কারও সন্ধান মেলেনি গারো এলাকায়। আর কোনও গ্রেফতারি হয়নি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘পূর্তি বা স্বামী – কাউকেই চিহ্নিত বা গ্রেফতার করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই না করেই বা কোনওরকম সমন্বয় সাধন না করেই পুরো কাহিনী তৈরি করা হয়েছে।’

পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে বিএসএফের (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার) ইনস্পেক্টর জেনারেল ওপি উপাধ্যায় বলেছেন, ‘ওইসব লোকজন হালুঘাট সেক্টর দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে যে ঢুকেছে, এমন কোনও প্রমাণই নেই।’ একেবারে কড়া ভাষায় তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের দাবি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *