সরস্বতী পুজো থেকে টানা চারদিনের জন্য বাংলায় বন্ধ ব্যাঙ্ক। এরপর ২৭ জানুয়ারিও বন্ধ থাকতে পারে ব্যাঙ্কগুলি। সপ্তাহে ৫ দিন করে কর্মদিবসের দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের ইউনিয়নগুলি ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ থাকতে পারে টানা পাঁচদিন। উল্লেখ্য, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বাংলায় ২৩ জানুয়ারি ব্যাঙ্ক ছুটি ছিল। এরপর ২৪ তারিখ ছিল মাসের চতুর্থ শনিবার। আর ২৫ জানুয়ারি রবিবার। সোমবার ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক। এরপর ২৭ তারিখও যদি ধর্মঘটের জন্য ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে, তাহলে দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মাসের প্রথম এবং তৃতীয় শনিবার ব্যাঙ্ক খোলা থাকে। দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার বন্ধ থাকে ব্যাঙ্ক। তবে ব্যাঙ্ককর্মীদের দাবি, সব শনিবারেই ব্যাঙ্ক ছুটি দিতে হবে। এই আবহে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মজুরি সংশোধন নিষ্পত্তির সময় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) এবং ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ)-এর মধ্যে একটি চুক্তিতে এই ছুটি দাবির কথা উল্লেখ করা ছিল। এই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই প্রতিটি শনিবারকে ছুটি ঘোষণা করতে সম্মত হয়েছিল। তবে এখনও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্মীদের বক্তব্য, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, এলআইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সরকারি অফিস সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সপ্তাহে পাঁচদিন কর্মদিবস পালন করে এবং দুদিন করে ছুটি থাকে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কগুলির ছয় দিনের কর্মদিবস চালিয়ে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
এহেন পরিস্থিতিতে ইউএফবিইউ ২৭ জানুয়ারি ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়ার পরে শ্রম কমিশনার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এই মর্মে গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সমাধানসূত্র বের করতে বৈঠকও করেছিলেন তিনি। তবে সেই আলোচনা সত্ত্বেও ইউনিয়নগুলি বলে, কোনও ইতিবাচক ফল মেলেনি বৈঠকে। আর তাই শনিবার সন্ধ্যায় ইউএফবিইউ বলে যে তারা এখনও ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউএফবিইউ বলেছে, ‘বিস্তারিত আলোচনা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে কোনও ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি।’ ইউএফবিইউ যুক্তি দিয়েছে যে পাঁচ দিনের কাজের সপ্তাহে স্থানান্তরিত হলে ম্যান-আওয়ার কমবে না। কারণ পাঁচ কর্মদিবসে অতিরিক্ত ৪০ মিনিট করে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন ব্যাঙ্ককর্মীরা।

এই ধর্মঘটের জেরে কোন ব্যাঙ্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে? ধর্মঘটের জেরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং অন্যান্য সরকারি ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবা প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইউএফবিইউ ভারতের নয়টি প্রধান ব্যাংক ইউনিয়নের একটি সম্মিলিত সংস্থা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং কিছু পুরানো বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্ব করে ইউএফবিইউ। তবে এই ধর্মঘটের জেরে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের মতো বড় বেসরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলির কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।