বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি পুলিশের। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত টানা অভিযানে আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট পাঁচ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রবিবার দিনভর বারুইপুর ছিল উত্তপ্ত। নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনার আবহে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দেন বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, কোনও অপরাধীকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও তিন জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে বারুইপুর থানার পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর একটি দলও অভিযানে অংশ নেয়। বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে থাকা সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, কোনও অভিযুক্ত যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য রাতভর একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।
ধৃতদের রবিবার রাতেই দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার প্রকৃত কারণ, অপরাধে কার কী ভূমিকা ছিল এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি।

এই ঘটনার তদন্তে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য। ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে।
সোমবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় এখনও শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজ্যজুড়েই।