Bengal Industrial Projects Update আগামী দু’সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে দুটি কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে চলেছে। একটি কারখানা তৈরি করা হবে হুগলিতে। অপরটি পাচ্ছে বাঁকুড়া। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা মাইলস্টোন হতে চলেছে। কারণ এটি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পরে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কালো অধ্যায় কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার যে প্রতিজ্ঞা করেছিল বিজেপি, তা পূরণের পথে প্রথম ধাপ হতে চলেছে ওই দুটি প্রকল্প। সেই পরিস্থিতিতে দুটি প্রকল্পেরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
ডানকুনি থেকে মেজিয়া- নয়া স্বপ্ন দেখবে বাংলা
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন যে আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) হুগলির ডানকুনিতে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানার সম্প্রসারণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। আর তার ঠিক পরের শনিবার (১৮ জুলাই) বাঁকুড়ায় মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের কারখানা সম্প্রসারণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
বড়সড় পরিকল্পনা শ্যাম স্টিলের
বিষয়টি নিয়ে শ্যাম স্টিলের ডিরেক্টর ললিত বেরিওয়ালা জানিয়েছেন, মেজিয়াতে যে ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট আছে, সেটি আরও আধুনিক এবং বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার ফলে পর্যায়ক্রমে প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানের ০.৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে দু’মিলিয়ন টন করা হবে। প্রথম দফায় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ মিলিয়ন টন। তারপর উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য ৫০০ একরের মতো জমি লাগবে। সেই মর্মে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এশিয়ার অন্যতম সেরা হবে ডানকুনি
আবার ডানকুনিতে যে ইন্টিগ্রেটেড কারখানা আছে, সেটার বহর আরও বাড়ানোর জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক কর্তা। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানিয়েছেন যে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেটার মধ্যে গত কয়েক বছর অধিগৃহীত জমির খরচ ধরা আছে। মূলধনী খাতে ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকার মতো।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ লাখ বর্গফুটের উৎপাদন ও আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো যুক্ত হবে। যার ফলে ডানকুনি কেন্দ্রটির মোট আয়তন দাঁড়াবে প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট। আর কাজ শেষ হলে এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সম্প্রসারণের প্রকল্পের ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩,০০০ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৬,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।