বিহারে এনডিএ জোটে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) জোটে আর ‘দাদা’ রইল না। বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ এবং বিজেপি ১০১টি করে আসনে লড়াই করবে। যদিও ‘দাদা’ বা ‘ভাই’ নিয়ে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের দল বরাবরই বিজেপির থেকে বেশি আসনে লড়ত। কিন্তু এবার ছবিটা পালটে গেল।
২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ ১১৫টি আসনে এবং বিজেপি ১১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এবার সেখানে ওই দুটি দল মিলে ২০২টি আসন পেয়েছে। আর বাকি তিন দলের নেতা চিরাগ পাসোয়ান, জিতনরাম মাঝি এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহাকে ৪১টি আসনের মধ্যে মানিয়ে নিতে হয়েছে। চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ২৯টি আসনে লড়াই করবে। হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা ও রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চাকে ছ’টি করে আসন ছাড়া হয়েছে।
আর সেই আসন বণ্টনের ফর্মুলা ঘোষণা করা হতেই জল্পনা শুরু হয়েছে যে যদি ভোটে জিতে যায় এনডিএ জোট, তাহলে কি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজেদের প্রার্থী বসানোর পথে হাঁটবে বিজেপি। এমনিতে ২০২০ সালে বিহারে বিজেপি ৭৪টি আসন জিতেছিল। সেখানে জেডিইউয়ের ঝুলিতে গিয়েছিল মাত্র ৪৩টি আসন। দ্বিতীয় সেরা দলও হতে পারেনি। তারপরও নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছেড়ে দিয়েছিল।গত কয়েকদিন ধরে আসন বণ্টন নিয়ে পাটনা থেকে দিল্লি পর্যন্ত, শরিক দলগুলির মধ্যে আলোচনা চলছিল। নিজেকে মোদীর ‘হনুমান’ বলা চিরাগ বাকি চারটি দলের উপর টেক্কা দিয়েছেন। চিরাগ বিজেপির নেতৃত্বের কাছে তাঁর দলের জন্য প্রথমে ৪০টি আসনের দাবি করেছিলেন। এরপর তিনি ৩০টি আসনে অনড় থাকেন। অবশেষে বিজেপি নেতৃত্বকে ২৯টি আসন দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে চিরাগ একাই লড়েছিলেন। যার ফলে এনডিএ জোটের বড় ক্ষতি হয়েছিল। চিরাগের কারণে জেডিইউকে একাধিক আসনে হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এবার বিজেপি নেতৃত্ব কোনওভাবেই চিরাগকে দূরে যেতে দিতে চায়নি। বিজেপি প্রথমে তাঁকে ২৬টি আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের আসন দেওয়ার কথাও বলেছিল। কিন্তু চিরাগ হননি।