BJP-র সুরেই রাহুলের জার্মানি সফরকে নিশানা সিপিএম সাংসদের

Spread the love

সংসদে শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন জার্মানি সফরে গিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই নিয়ে বিজেপি আগেই সমালোচনা করেছে। এবার বিজেপির মতোই কড়া সমালোচনা করল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-র শরিক সিপিএম।

ইন্ডিয়ান ওভারসিস কংগ্রেস ইভেন্টে যোগ দিতে জার্মানি গিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আর তা নিয়ে এবার বিজেপির পাশে দাঁড়ালেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। অথচ ইন্ডিয়া জোটে এখনও রয়েছে সিপিএম। তারপরও বিজেপির পাশে দাঁড়ানোয় রাম-বাম জোট নিয়ে তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। এনডিটিভি-কে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তিতে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। যেখানে নির্বাচনী সংস্কার এবং ‘জিরামজি বিল’ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা গিয়েছে। রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ‘সমস্ত পরিবর্তন’ আনতে পারত। তাঁর কথায়, ‘আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দলনেতা নেতৃত্ব দেবেন… এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা।’

অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটে থেকেও সিপিএম সংসদের এমন মন্তব্য বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা দেখছেন অনেকে। কারণ সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বলেছেন, ‘গত তিন-চার দশক ধরে সংসদ অধিবেশনের ক্যালেন্ডার প্রায় একই রয়েছে। সবাই জানে যে এই অধিবেশনটি ২২ ডিসেম্বরের কাছাকাছি শেষ হবে। তাহলে আমাদের কী বিরোধী দলনেতাকে কোনও সময়সূচি নির্ধারণ না করার এবং তখন ভারতে থাকার কথা বলা উচিত, নাকি অন্য কংগ্রেস নেতাদের তাঁকে বলা উচিত? বামপন্থীদের বাদ দিন…ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ডিএমকে নেতা টিআর বালুই সংসদে বিরোধী দলের নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যখন তাঁর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কথা ছিল।’ এখন এই মন্তব্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এছাড়াও কেরল এবং তামিলনাডুতে কংগ্রেস জোট করে সরকার চালাচ্ছে। পরের বছর সেখানে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিজেপি সেখানে কোনও দিন জিততে পারেনি। এই বিষয়ে সিপিএম সাংসদ বলেন, ‘রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে তাঁকে সংসদে থাকতে হবে নাকি…তিনি তাঁর কাজের প্রতি আন্তরিক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো আমি কেউ নই। তবে আমি বলছি, আমরা জনগণের কাছে যে বার্তা পাঠাই -‘বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ’ এবং সেটা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতির দ্বারাই নির্ধারিত হবে।’কংগ্রেস সাংসদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা হাস্যকর, যখনই তিনি কেরলে যান, তখনই তাঁর মধ্যে বাজে কথা বলার প্রবণতা তৈরি হয়। আর আমার মনে হয় তার জন্য কেরল কংগ্রেস পার্টিই দায়ী। আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কেরলকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। অথচ, আসলে এটি ছিল বামপন্থী এবং কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই।’ এদিকে, ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট হচ্ছে না। সেটা প্রকাশ্যে এসেছে। এই আবহে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে সিপিএম সাংসদের সমালোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *