ভারতের বিরুদ্ধে বহু সময়ই পাকিস্তানের সেনার প্রধান আসিম মুনির নানান উস্কানিমূলক বার্তা দিয়েছেন। এবার সেই আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন পান সেনার কাণ্ডকারখানার নীতিগত দিক নিয়ে মুখ খুলে শাহবাজ শাসিত পাকিস্তানের দু’মুখো নীতির মুখোশ টেনে খুলে দিলেন পাকিস্তানি নেতা মৌলানা ফজলুর রহমান।
পাকিস্তানের জামায়েত উলেমা-ই-ইসলাম এফ-র প্রধান হলেন মৌলানা ফজলুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তুললেন, শেহবাজ সরকারের যুক্তি নিয়ে। মৌলানা বলছেন, যদি পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের ওপর হামলা করার ঘটনাকে যুক্তিযুক্ত বলে, তাহলে পাকিস্তানে ঢুকে ভারতের অপারেশনের প্রতি আপত্তি তোলাও সাজে না ইসলামাবাদের!
পাকিস্তানের ‘মসজিলস-এ ইত্তেহাদ-এ-উম্মত’ এ বক্তব্য রাখছিলেন মৌলানা ফজলুর রহমান। এই আসর বসেছিল পাকিস্তানের করাচির লিয়ারিতে। আর এই লিয়ারি শহরের নামটি ‘ধুরন্ধর’ ফিল্মের দৌলতে এখন ভারতেও পরিচিত নাম। আর এই শহরে আয়োজিত ওই সভায় পাকিস্তানের নেতা মৌলানা ফজলুর রহমান বলেন,’যদি আপনি বলেন যে আমরা আফগানিস্তানে আমাদের শত্রুকে আক্রমণ করেছি এবং এটিকে ন্যায্যতা দিয়েছি, তাহলে ভারতও বলতে পারে যে তারা বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে এবং কাশ্মীরে হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীগুলির সদর দপ্তরে আক্রমণ করেছে।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরে পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় পাক জঙ্গি শিবিরগুলিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর। সেই প্রসঙ্গ তুলেই ওই প্রেক্ষাপটে মৌলানা ফজলুর রহমানের প্রশ্ন,’ আপনি কীভাবে আপত্তি জানাতে পারেন? আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলছে। আপনি কীভাবে উভয় অবস্থানকেই ন্যায্যতা দেবেন?’ এই প্রশ্ন সাফ ভাষায়, পাকিস্তানের শেহবাজ সরকারের সামনে রাখেন মৌলানা ফজলুর রহমান।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মুরিদকেতে রয়েছে জঙ্গি শিবির লস্কর-ই-তৈবার হেডকোয়ার্টার। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে রয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ -এ-মহম্মদের সদর দফতর। আর অপারেশন সিঁদুরে এই বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় সেনা হানা দিয়েছে। গুঁড়িয়ে দিয়েছে বহু জঙ্গি ক্যাম্প। এদিকে, সদ্য আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানে একাধিকবার পাকিস্তানি হামলার খবর উঠে আসে। যে হামলা আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের সেনা চালায়। এই দুই প্রসঙ্গ টেনেই তোপ দাগেন মৌলানা ফজলুর রহমান।