Blood Bank Scam in Bengal: রক্ত নিয়েও দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গে! অভিযোগ উঠেছে যে বেআইনিভাবে রক্ত এবং প্লাজমা বিক্রির মাধ্যমে কোটি-কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই ব্যবসার জন্য তোয়াক্কা করা হয়নি কোনও নিয়মের। এমনকী প্লাজমার লোভে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ করারও অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে। যে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে, তাতে ব্লাড ব্ল্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির অঙ্কটা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে ৭৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্ল্যাঙ্ক আছে, তার মধ্যে কমপক্ষে ১২টি স্বাস্থ্য দফতরের স্ক্যানারের তলায় আছে। ইতিমধ্যে ১১টির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেজন্য ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন করতে নিষেধ করেছে রাজ্য সরকার।
প্লাজমা বিক্রি করে কোটি-কোটি টাকা কামানোর উদ্দেশ্যেই দুর্নীতি
আর দুর্নীতি এবং অনিয়মের শিকড় প্লাজমা বিক্রির মধ্যেই লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, রক্তের প্লাজমা বিক্রি করে কোটি-কোটি টাকা কামানোর উদ্দেশ্যেই যাবতীয় অনিময় করা হয়েছে। সেজন্য নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেশি পরিমাণে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। বেশি পরিমাণে রক্ত সংগ্রহ করতে উপহারের টোপ দেওয়া হয়েছে, যাতে বেশি রক্তদাতা পাওয়া যায়। উপহারের টাকা জোগান দিয়েছে ব্লাড ব্ল্যাঙ্কগুলিও। অথচ পুরো বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চোখ বন্ধ করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

নাম উঠে এল কালীঘাটের এক প্রভাবশালীরও
সেই রেশ ধরে পদ্মপুকুরের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, আচমকা অভিযান চালিয়ে ভয়ংকর অনিয়মের ছবিটা সামনে এসেছে। যে পাউচে ৩০০ মিলিমিটার রক্ত রাখা যায়, সেখানে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত রাখা হয়েছে। ছোটো ফ্রিজারের মধ্যে ঠেসে রেখে দেওয়া হয়েছে প্রচুর পরিমাণে রক্ত এবং প্লাজমা। পাশাপাশি ওই ব্লাড ব্ল্যাঙ্ক থেকে কালীঘাটের প্রভাবশালী নেতা, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন বিধায়কের নাম থাকা স্ট্যাম্পও মিলেছে বলে সূত্রের খবর।