পাকিস্তানি সেনা এবং জামাতিদের ‘হোয়াইটওয়াশ’ করতে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার দায় ভারতের ঘাড়ে চাপালেন বাংলাদেশের বিএনপি নেতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অ্ভূত দাবি করে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের আল-বদর, আল-শামস, পাকিস্তানি সেনা, জামাত নয়, বরং ‘পার্শ্ববর্তী দেশের’ লোকেরা হত্যা করেছিল। উল্লেখ্য, টিপু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব।
জানা গিয়েছে, গত ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে টিপু এক জনসভায় বলেন, ‘আজও সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় কলাম ও বিভিন্ন জায়গায় লিখেছে, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে আল-বদর, আল-শামস। ১৪ ডিসেম্বর তো কোনও আল-বদর, আল-শামস আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করেননি। তারাই হত্যা করেছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চেয়েছিল। সেদিন পার্শ্ববর্তী কোনও এক দেশের লোকেরা পূর্ব পাকিস্তানে টার্গেট করে আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করেছিল। আমি মনে করি, ইসলামিক দলগুলোকে টার্গেট করে বিভিন্ন বাম-সংগঠন, বাম-মনা সাংবাদিকরা। ইতিহাসের পাতায় আপনাদেরকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। কেন আপনারা এটা সংশোধন করেন না? কেন আপনারা দাবি জানান না?’
এদিকে টিপুর বক্তব্যের পরই বিএনপির তরফ থেকে বলা হয়, বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন এই বিষয়ে বলেন, ‘এটি টিপুর ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সঙ্গে আমি বা আমার দল কোনওভাবেই একমত নই। তাঁর বক্তব্যের দায়দায়িত্ব আমাদের নয়।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি এটিএম কামাল বলেন, ‘পাকিস্তান তাদের এ দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল বদর, আল সামসের মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে বলেই জানি। টিপু যে ধরনের কথা বলেছেন, সে ধরনের কথাবার্তা জামায়াতে ইসলামি বলে। টিপু কেন জামাতে ইসলামের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কথা বলছেন, এটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জামাত এবং এনসিপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিএনপি। এমনকী জামাতের বিরুদ্ধে তো বিএনপি নেতা তারেক জিয়া বলেছিলেন, ‘যারা বলছেন অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে—কিভাবে তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনের সম্মান লুঠ করেছে।’ এদিকে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার শহিদ মিনারে ‘ভারত বিরোধী’ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি, জামাতরা। সেই সভায় ডাক পেলেও বিএনপি সেখানে যায়নি। সম্প্রতি ঢাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করার প্রতিবাদে সেই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেখানে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সব কথা বলেন মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমরা।