সম্প্রতি মার্কিন সাংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে জামাতের আঁতাতের কথা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই আবহে বিএনপি আঁতকে উঠেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা বিএনপি বিগত বছরগুলিতে জামাতের সঙ্গে বহুবার হাত মিলিয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে জামাতকে ‘স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি’ হিসেবে আখ্য দিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে বিএনপি। ইউনুস জমানায় যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেই সময় বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে জামাতের যোগ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে জামাত-আমেকিকার এই আঁতাত।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্যালেস্টাইনে যখন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমেরিকা এবং জামাতের আঁশাতে দেশে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। এটা ভালো না। এটা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার সত্যতা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে বিএনপি।’ এদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগে নৌকা আর ধানের শীষ লড়াই করতাম। তখনকার লড়াই ছিল অন্য রকম। এবার লড়াইটা হচ্ছে অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে। দেখতেই পাই না কারা আসছে, আমাদের সামনে।’ তিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে যেন ‘ডিপ স্টেটের’ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এই আবহে জামাতকে তোপ দেগে ফখরুল বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে যে দলটি আজ ভোট চাইতে আসছে, তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।’
উল্লেখ্য, জামাতের সঙ্গে আমেরিকার ‘বোঝাপড়া’ নিয়ে একটি অডিয়ো বার্তা ফাঁস হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কূটনীতিকের। সেই কথোপকথনের সময় নাকি মার্কিন দূত ‘আশা’ ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনও সময়ের সবচেয়ে ভালো করবে জামাত। এমনকী তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমরা (আমেরিকা) চাই তারা (জামাত) আমাদের বন্ধু হোক’। এই বৈঠকটি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হয়েছিল। সেখান থেকেই এই কথোপকথনের রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের পাশাপাশি আলজাজিরাও এই রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে।

এদিকে সেই সাংবাদিককে মার্কিন কূটনীতি বলেছিলেন, জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকে মিডিয়ায় নিয়ে আসতে আগ্রহী তারা। এদিকে কথোপকথনে মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হাসিনার বিচার গ্রহণযোগ্য না হলেও এর রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এদিকে বিএনপির ওপর জামাত এবং ইউনুস সরকার যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতেও মার্কিনিরা আপ্লুত বলে জানান সেই মার্কিন দূত। এদিকে জামাতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চাইলেও মার্কিন দূত স্পষ্ট করে দেন, যদি তাদের কথা মতো জামাত না চলে, সেই ক্ষেত্রে পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। এদিকে বাংলাদেশকে কোনও ভাবে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেও বারণ করেন সেই কূটনীতিক। এদিকে বাংলাদেশে জামাত ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন কার্যকর করা হবে বলে ‘বিশ্বাস করেন না’ বলে জানান সেই কূটনীতিক।