মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল চিন। ইরানের ওপর সাম্প্রতিক ইজরায়েলি এবং মার্কিন হামলায় চিনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যত ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের পর এবার ইরানের মাটিতেও চিনের তৈরি ‘HQ-9B’ মিসাইল সিস্টেমের এই ব্যর্থতা বিশ্বজুড়ে চিনা সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: অপারেশন সিঁদুর ও ইজরায়েলি হামলা
সম্প্রতি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ইজরায়েলি বায়ুসেনা ইরানের একাধিক জায়গায় বিধ্বংসী হামলা চালায়। ইরান তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে চিনের তৈরি উন্নত প্রযুক্তির ‘HQ-9B’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভরসা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ।
কেন ব্যর্থ হল চিনের HQ-9B?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই মিসাইল সিস্টেমটি মূলত রাশিয়ার এস-৩০০ প্রতিরক্ষা সিস্টেমের অনুকরণে তৈরি। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি এতটাই উন্নত হয়েছে যে, তারা সহজেই এই সিস্টেমের রাডারকে জ্যাম করে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ইরানের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১) রাডার জ্যামিং: ইজরায়েলি বায়ুসেনার অত্যাধুনিক জ্যামিং প্রযুক্তির সামনে HQ-9B-এর রাডার অন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২) স্টেলথ টেকনোলজি: ইজরায়েলের হাতে থাকা F-35 স্টেলথ ফাইটার জেটগুলো রাডারের নজর এড়িয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
৩) প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: চিনের সমরাস্ত্র সাধারণত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ভালো ফল দিলেও বাস্তব যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার পিছিয়ে পড়ছে।

পাকিস্তান থেকে ইরান: একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি
এটিই প্রথম নয়। এর আগে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও চিনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।’অপারেশন সিঁদুর’-র সময় ভারত নিশানা করেছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে।ছুড়েছিল ব্রহ্মস ও স্ক্যালপের মতো মিসাইল। তারপর পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটতেও প্রত্যাঘাত করেছিল।
বিশ্ব বাজারে চিনের সমরাস্ত্র ব্যবসায় মন্দা আসছে?
চিন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশ। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ কম দামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আশায় চিনের থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনে। কিন্তু ইরান ও পাকিস্তানে এই পরপর ব্যর্থতা চিনের ‘গ্লোবাল ডিফেন্স মার্কেট’-এ বড় ধাক্কা দিতে পারে। তুরস্ক বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো যারা চিনের অস্ত্রের প্রতি আগ্রহী ছিল, তারা এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।