অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে মহিলাদের একাংশের মধ্যে যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে সরাসরি আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে গিয়ে তিনি জানান, উপভোক্তাদের কোনওভাবেই চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। সরকারি কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। তিনি বলেন, ‘বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। আমাদের লোকেরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন। আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকরাই যেন সাহায্য পান।’
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১২ পাতার বিস্তারিত ফর্ম প্রকাশ হওয়ার পর বহু মহিলার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়, কীভাবে এত তথ্য পূরণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং কম শিক্ষিত উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন,সরকারের প্রতিনিধিরা সরাসরি মানুষের বাড়িতে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করবে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হল প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তাই শুধুমাত্র আবেদনপত্র জমা নেওয়া নয়, তার সঙ্গে তথ্য যাচাই এবং স্বচ্ছতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করাই এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
এর আগে নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানিয়েছিলেন যে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিডিও অফিস এবং প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রও রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা যোজনা নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, আগামী ৯০ দিন ধরে আবেদন গ্রহণ চলবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা দিলে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে বেআইনি বা অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার জন্যও তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি মহলের মতে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে কোনও বিভ্রান্তি যাতে না ছড়ায় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর বহু উপভোক্তার মধ্যেই স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।