নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো সহ একাধিক ভারতীয় এজেন্সির নজরে বহুদিন ধরেই ওয়ান্টেড ছিল সলিম দোলা। কুখ্যাত মাফিয়া তথা ১৯৯৩ সালে মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহায়ক এই সলিম দোলা এবার তুরস্কের ইস্তানবুলে ধরা পড়েছে।
সেলিমের পাকড়াও হওয়ার খবর ভারতীয় বিভিন্ন এজেন্সির জন্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তুরস্কে সলিম ধরা পড়ার পর তার কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে বিভিন্ন মহল। মূলত সলিমের কারবার ছিল মাদক পাচারের। এদেশ ও তার আশপাশে মাদক পাচার চক্রের অন্যতম নাম সলিম দোলা!
কর্মকর্তারা বলেছেন, যে সেলিম দোলা ভারত ও তার আশেপাশে সক্রিয় নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যুক্ত মাদক পাচার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জানা গেছে, তাকে দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অপরাধী চক্রের মাদক ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সেলিম দোলাকে সক্রিয়ভাবে খুঁজছিল। তারই মাঝে তুরস্কে সলিমের গধরা পড়ার ঘটনা বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হয়।
একাধিক তদন্তে সলিমের নাম উঠে এসেছিল এবং চলমান মামলাগুলোতে সলিম দোলাকে পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের একটি রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়েছিল, যা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব এবং তার গতিবিধি অনুসরণের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বাই পুলিশের একটি বড় মাদক মামলার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর, যে মামলায় সেলিম দোলাকে একজন পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা মনে করেন যে তার নেটওয়ার্কটি একাধিক অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এবং তার কর্মীরা মাদক ব্যবসার বিভিন্ন দিক পরিচালনা করত।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে দিল্লি পুলিশ ও নেপাল পুলিশের যৌথ অপারেশনে আরও এক সেলিম গ্রেফতার হয়। তার পরিচিতি ‘সেলিম পিস্তল’ হিসাবে। ২০২৫ সালের আগস্টে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং নেপাল পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে ভারতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারী শেখ সেলিম ওরফে ‘সেলিম পিস্তল’ নেপাল থেকে গ্রেফতার হয়।