বায়ুদূষণ বাড়তে থাকায় এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি কমানোর দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) বিরোধিতা করল কেন্দ্র। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ার পিউরিফায়ারকে ‘মেডিক্যাল ডিভাইস’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা বা জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জিএসটি কাউন্সিলের নয়। এই ধরনের শ্রেণিবিন্যাস স্বাস্থ্যমন্ত্রক বিস্তারিত যাচাইয়ের পর করে থাকে।
এই মামলায় কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এন ভেঙ্কটারমন বিচারপতি বিকাশ মহাজন ও বিচারপতি বিনোদ কুমারের বেঞ্চকে জানান, মাত্র দু’দিনের মধ্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত হলফনামা দাখিলের জন্য তিনি আদালতের কাছে সময় চান। আদালতে এএসজি আরও বলেন, জিএসটি কমানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জিএসটি কাউন্সিল একটি সাংবিধানিক সংস্থা এবং এটি ফেডারেল কর কাঠামোর অংশ। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল জানিয়েছেন, সব রাজ্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। কোনও সিদ্ধান্ত যদি ভোটের মাধ্যমে নিতে হয়, তা কেবলমাত্র সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমেই সম্ভব। গত ২৪ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট জাতীয় রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখে এয়ার পিউরিফায়ারের উপর জিএসটি কমানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য জিএসটি কাউন্সিলকে জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিল।
এদিন আদালতের প্রশ্নের জবাবে এএসজি বলেন, ‘এভাবে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাবে। সংসদীয় কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে, সেগুলি বিবেচনাধীন। এর সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। আমরা বলছি না যে হবে বা হবে না। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে।’ এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন নজর জিএসটি কাউন্সিলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রের বিস্তারিত হলফনামার দিকেই। এর আগে মামলাকারীর যুক্তি, এই রকম ‘ভয়াবহ পরিস্থিতিতে’ এয়ার পিউরিফায়ারকে কখনওই ‘বিলাসবহুল সামগ্রী’ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে না। প্রতিটি মানুষের নিজের স্বাস্থ্য এবং বেঁচে থাকার স্বার্থে ঘরের বায়ু পরিশুদ্ধ করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, সপ্তাহের শুরুতে খারাপ হলেও শেষের দিকে কিছুটা উন্নত হল দিল্লির বাতাসের গুণগত মান। শুক্রবার সকালে দিল্লির বাতাসের সামগ্রিক গুণমান সূচক (একিউআই) পৌঁছল ২৯২-তে। গত তিনদিনে ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে বাতাসের মান। কমেছে দূষণ। বেশ কিছু মনিটরিং স্টেশনের সামগ্রিক গুণমান সূচক ২০০-র তলায় নেমেছে। শুক্রবার সকালের আপডেট অনুযায়ী, লোধি রোড-আইআইটিএম এলাকার সামগ্রিক গুণমান সূচক ১৬০, লোধি রোড-আইএমডি এলাকায় সামগ্রিক গুণমান সূচক ১৯৪ এবং সফদরজং এলাকায় সামগ্রিক গুণমান সূচক ১৮৮।
